করোনা প্রতিরোধ কমিটির বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত যশোর ও ন’পাড়া পৌরসভায় ‘লকডাউন’

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কমিয়ে আনতে যশোর ও নওয়াপাড়া পৌরসভায় ‘লকডাউন’ কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে যশোর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক সভায় এই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে এই লকডাউন কার্যকর হবে। এর আগে এই দুই পৌরসভায় দু’টি করে ওয়ার্ডে এই কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর ছিল। এখন গোটা পৌর এলাকায়ই এর আওতায় আনা হলো।

যশোর জেলার করোনা সংক্রমণের হার ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্যে মঙ্গলবার বিকেলে কালেক্টরেট সভাকক্ষে সভার আয়োজন করে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সভায় বলা হয়, প্রতিদিন যশোর পৌর এলাকা ও অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় সংক্রমণের হার বেড়ে যাচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যশোর পৌর এলাকার দু’টি ওয়ার্ডের চলমান বিধি-নিষেধ যশোর পৌর এলাকার সব ওয়ার্ডে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি নওয়াপাড়া পৌরসভার দু’টি ওয়ার্ডের চলমান বিধি-নিষেধও সকল ওয়ার্ডে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এইকসাথে সভায় সবার মাস্ক ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, বাজারে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের উপর জোর দেয়া হয়। পাশাপাশি গণসমাবেশ ও অনুষ্ঠান আয়োজন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, নতুন বিধি নিষেধের আওতায় মোটরসাইকেলে একজন, রিকশায় একজন এবং অটোরিকশায় দুইজনের বেশি চলাচল করতে পারবেনা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগ যশোরের উপ-পরিচালক হুসাইন শওকত, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, যশোর জিলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন প্রমুখ।

প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যশোর জেলার যশোর পৌরসভা ও নওয়াপাড়া পৌরসভায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জন্য প্রথম দফায় গত শনিবার (৫ জুন) যশোর পৌরসভার ৩ ও ৪ এবং নওয়াপাড়া পৌরসভার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত হয়। মঙ্গলবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই কঠোর বিধি-নিষেধ বুধবার মধ্যরাত থেকে দু’টি পৌরসভার গোটা এলাকায় সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই দুটি পৌরসভায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যবৃন্দ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে। নিয়মিত বিজিবি, র‌্যাব, আনসার বাহিনীর টিম টহল জোরদার করবে। দুটি পৌরসভায় স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আইন অমান্যকারীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করা হয়েছে সভা থেকে।

পাশাপাশি যশোর শহরের বাইরে বিভিন্ন গ্রামে করোনা আক্রান্তদের বাড়িতে লাল পতাকা উত্তোলন করা হবে। সেখানে জনগণের চলাচল সীমিত করণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন। যেসব এলাকা বিধিনিষেধের আওতায় থাকছে, সেসকল এলাকার রাস্তাঘাট বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিধি নিষেধের এলাকায় থাকা সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। কাঁচা বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান বসানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান জানিয়েছেন, যশোর পৌর এলাকা ও অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দু’টি পৌরসভার সবগুলো ওয়ার্ডে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। সার্বিক প্রস্তুতি শেষে বুধবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে এই বিধি-নিষেধ কার্যকর করা হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৫ জুন সভা থেকে যশোর পৌরসভার ৩ ও ৪ এবং নওয়াপাড়া পৌরসভার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

শেয়ার