ইংল্যান্ড সফরে যেতে রাজি লঙ্কান ক্রিকেটাররা

সমাজের কথা ডেস্ক॥ সফর শুরুর আগের দিন কাটল অনিশ্চয়তা। ইংল্যান্ড সফরে যেতে রাজি হয়েছেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটাররা। তবে সফরে গেলেও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তারা সই করছেন না। তাই চুক্তি নিয়ে মূল জটিলতার শেষ হচ্ছে না এখনই।

তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টির সফরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইংল্যান্ডের উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার কথা লঙ্কানদের।

ক্রিকেটারদের মূল দাবি লঙ্কান বোর্ড মেনে নেওয়ার পরই সফরে যেতে রাজি হয়েছেন ক্রিকেটাররা। কেন্দ্রীয় চুক্তির ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি প্রয়োগ করে প্রতিটি ক্রিকেটারকে মূল্যায়ন করা হয়েছে, সেটি সুনির্দিষ্ট করে জানতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। সেই পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয়ের কথা বলে আসছিলেন তারা। ক্রিকেট শ্রীলঙ্কা এবার সব ক্রিকেটারকে তা দেখানোর আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ক্রিকেটারদের আইনজীবি নিশান প্রেমাথিরতেœ ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোকে বলেন, দেশের হয়ে খেলার ভাবনাই ক্রিকেটারদের কাছে আগে।

“শুরু থেকেই ক্রিকেটাররা এই স্বচ্ছতা দাবি করে আসছিলেন। চুক্তিতে স্বাক্ষর না করেই এই সফরে খেলবেন তারা। ঐচ্ছিক এক ঘোষণপত্রে তারা সই করেছেন, কিন্তু সেখানে পারিশ্রমিক নিয়ে কিছু উল্লেখ নেই। তারা সবসময়ই শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

চুক্তির ক্ষেত্রে নতুন এই পদ্ধতি প্রয়োগ করেছে যারা, সেই টেকনিক্যাল কমিটির অবশ্য কখনোই আপত্তি ছিল না সুনির্দিষ্ট করে সব ক্রিকেটারের মূল্যায়নের ভিত্তিগুলো দেখাতে। তবে শ্রীলঙ্কার বোর্ড এই প্রথমবার এটি দেখাতে রাজি হলো।

ক্রিকেটারদের আরেকটি দাবিতে অবশ্য কোনোভাবে সায় দিতে রাজি নয় টেকনিক্যাল কমিটি। চুক্তির জন্য ক্রিকেটারদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল কমিটি পারফরম্যান্সকে বিবেচনায় নিয়েছে শতকরা ৫০ ভাগ, ফিটনেসকে শতকরা ২০ ভাগ, আর ১০ ভাগ করে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে নেতৃত্ব, পেশাদারীত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা/উপযোগীতাকে। ক্রিকেটারদের দাবি, চুক্তির ক্ষেত্রে শুধু পারফরম্যান্স ও ফিটনেসকেই বিবেচনায় নেওয়া হোক, আর কিছু নয়।

ইংল্যান্ড সফর থেকে ফেরার পর এই দাবি নিয়ে তারা আরও সোচ্চার হবেন বলেই খবর। সব মিলিয়ে তাই আপাতত জটিলতা কাটলেও ইংল্যান্ড সফরের পর লঙ্কান ক্রিকেটে আবার বড় ধরনের অস্থিরতা অপেক্ষায়।

ট্রাক চাপায় মুসলিম পরিবারের ৪ জনকে হত্যা ‘পূর্বপরিকল্পিত’
সমাজের কথা ডেস্ক॥ কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে পিকআপ ট্রাক চাপা পড়ে একটি মুসলিম পরিবারের চার সদস্যের নিহতের ঘটনা ‘পূর্বপরিকল্পিত’ হামলা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রোববার পিকআপ ট্রাকটি রাস্তা থেকে লাফ দিয়ে ফুটপাতে উঠে তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়; এ ঘটনাকে ইসলামবিরোধী ঘৃণাজনিত অপরাধ বলে বর্ণনা করেছে দেশটির পুলিশ, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে লন্ডন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সুপার পল রাইট বলেছেন, “এটি একটি পরিকল্পিত, পূর্বপরিকল্পিত কাজ, ঘৃণা থেকে উৎসারিত।

“বিশ্বাস করা হচ্ছে, তারা মুসলিম বলেই তাদের বেছে নেওয়া হয়েছে।”

পুলিশ রোববার সন্দেহভাজন হামলাকারী ২০ বছর বয়সী নাথানিয়েল ভেলটম্যানকে গ্রেপ্তার করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে পুলিশ জানিয়েছে, তার গাড়ি হঠাৎ করেই রাস্তা থেকে সরে ফুটপাতের ওপর উঠে ওই পরিবারটিকে আঘাত করে তারপর দ্রুতবেগে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ওই পরিবারের নয় বছর বয়সী একটি বালক শুধু রক্ষা পেয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আছে সে।

ভেলটম্যান লন্ডনের বাসিন্দা বলে জানানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার চারটি হত্যাকা- ও একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার তাকে রিমান্ডে দেওয়া হয়েছে। রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার ফের তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ভেলটম্যানের নামে অপরাধের কোনো রেকর্ড নেই, সে কোনো বর্ণবাদী গোষ্ঠীর সদস্য বলেও জানা নেই। কোনো ঘটনা ছাড়াই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দূরে একটি মার্কেটের পার্কিং এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় সে একটি বর্ম ধরনের ভেস্ট পরা ছিল এবং দুষ্কর্মে তার কোনো সহযোগী ছিল বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পুলিশ তখন পর্যন্ত হতাহতদের নাম প্রকাশ না করলেও লন্ডন ফ্রি প্রেস জানিয়েছে, যারা নিহত হয়েছেন তারা হলেন সৈয়দ আফজাল (৪৪), তার স্ত্রী মাদিহা সালমান (৪৪) ও তাদের ১৫ বছর বয়সী কন্যা ইয়ুমনা আফজাল; সৈয়দ আফজালের ৭৪ বছর বয়সী মাও নিহত হয়েছেন, কিন্তু তার নাম নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আফজালের নয় বছর বয়সী ছেলে ফায়েজ আফজাল আঘাত পেলেও শঙ্কামুক্ত আছে।

২০১৭ সালে কুইবেকের একটি মসজিদে ছয় কানাডীয় মুসলিমকে গুলি করে হত্যা করেছিল এক ব্যক্তি; ওই ঘটনার পর এটিই কানাডায় মুসলিমদের ওপর চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

টরন্টো থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমের শহর লন্ডনের মেয়র এড হোল্ডার এ ঘটনাকে তার শহরে ঘটা সবচেয়ে নিকৃষ্ট নির্বিচার হত্যাকা- বলে অভিহিত করেছেন।

 

শেয়ার