যশোরে মৌসুমি ফলের চড়া দাম

সালমান হাসান রাজিব
ধুম গরমের পাশাপাশি মৌসুমি ফলের উচ্চদামেও বেড়েছে অস্বস্তি। ঘাম ঝরানোর এই দিনগুলোয় রসালো ফলে স্বস্তির পরশ খোঁজেন গরমে ক্লান্ত মানুষ। কিন্তু মধু মাসের এই ফলগুলোয় হাত বাড়ানোর জো নেই। কিনতে গেলে আকাশ ছোঁয়া দাম গুণতে হচ্ছে এসব ফলের। ক্রেতাদের সোজাসাপ্টা কথা হলো, মৌসুমি সব ফলের দাম সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

গতকাল যশোরের বাজারে গরমের চেয়েও যেন বেশি ছিলো লিচুর দামের উত্তাপ। এদিন প্রতি পিস লিচুর দাম হাকা হয় ৫ টাকা। আর সেই হিসেবে ১০০টি লিচুর দাম ধরা হয় ৫০০ টাকা। এছাড়াও মিষ্টি রসের শীতলতা ছড়ানো তালের শাঁসও দামের দৌড়ে কম যাচ্ছে না। প্রতি পিস তালের শাঁসের দাম ১০ টাকা।

কবিতার ভাষায়, পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ’-সেটিও সবার জন্য বেশ কঠিন। শহরে এমনিতেই এখন আর খুব বেশি একটা জাম গাছ নেই। গ্রামেও কমে গেছে। তারপরও যশোরের বাজারে কম বেশি জামের দেখা মিলছে। কিন্তু দাম অনেক চড়া। কেজিপ্রতি জামের দাম মানভেদে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। জাতীয় ফল কাঁঠালের দাম বেশ চড়া। মাঝারি ও বড় আকারের কাঁঠালের দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

সরেজমিন যশোর শহর ঘুরে দেখা যায়, শহরের প্রধান সড়কের পাশে মৌসুমি ফলের পসরা। আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, তাল সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। এমন দৃশ্য পাড়া-মহল্লার রাস্তার পাশেও। গতকাল সার্কিট হাউসের সামনে গ্রীষ্মকালীন ফল জামের দেখা মেলে। এখানে প্রতি কেজি জাম ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। অন্যদিকে দড়াটানা এলাকায় কেজিপ্রতি জাম ২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। একই রকম দৃশ্য ছিল বড়বাজার এলাকার। এখানেও এক কেজি জাম ২০০ টাকা হাঁকা হয়।

এছাড়া শহরের প্রায় সব প্রান্তেই লিচুর দাম ছিল শ’ প্রতি (১০০টি) ৫০০ টাকা। তবে দুই এক জায়গায় ৪৫০ টাকাতেও বিক্রি হয়। দড়াটানায় ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা আব্দুর রহিম জানান, পাইকারি বাজারে ফলের দাম এখন বেশি যাচ্ছে। যার কারণে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। দড়াটানা থেকে ফল কেনার সময় দামদর নিয়ে কথা হয় ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জুয়েলের সাথে। তিনি বলেন, লিচু, আমসহ বেশ কিছু ফল কিনতে এসেছিলেন। তার মতে, ভরা মৌসুমে লিচুর দাম অনেক বেশি। রেলবাজার এলাকায় ফলের দোকানে আলাপ হয় গৃহিণী নার্গিস বেগমের সাথে। তিনি বলেন, ১শ’ লিচুর দাম ৪৫০ টাকা বলেছে বিক্রেতা। তারমতে, এই দাম সাধারণের নাগালের বাইরে।

এদিকে, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইদানিং প্রচুর তালের শাঁস বিক্রির দৃশ্য চোখে পড়ছে। ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল (এসপি অফিস রোড) কলেজসংলগ্ন এলাকায় ভ্যানের উপর তাল বিক্রি করতে দেখা যায়। এখানে প্রতিটি তালের শাঁস ৭ থেকে ১০ টাকা দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। রাব্বি ইসলাম নামে এক কলেজছাত্র এখান থেকে তালের শাঁস কেনেন। দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে প্রচুর তাল উঠেছে। তারপরও দাম অনেক বেশি। যেটি আসলে কাম্য নয়।

বাজার ও শহর ঘুরে বেশ কয়েক জায়গায় কাঁঠাল বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে দাম তুলনামূলক অনেক বেশি। মাঝারি আকৃতির একটি কাঁঠালের দাম হাঁকা হয় ২০০ টাকা। আর বড় আকৃতির কাঁঠালের দাম চাওয়া হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

শেয়ার