ডেল্টা ধরন থেকে সুরক্ষায় দরকার ‘টিকার ব্যবধান কমানো’

সমাজের কথা ডেস্ক॥ কোভিডের মূল ধরনটির তুলনায় ভারতে প্রভাব বিস্তার করা ডেল্টা ধরনের বিরুদ্ধে ফাইজারের ভ্যাকসিন অনেক কম কার্যকর বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

এতে বলা হয়েছে, যারা ফাইজারের টিকার কেবলমাত্র একটি ডোজ নিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের ধরনগুলোর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডির প্রতিক্রিয়া অনেক কম দেখা যাচ্ছে।

দুই ডোজের মধ্যে লম্বা বিরতি ডেল্টা ধরনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সক্ষম এমন অ্যান্টিবডির মাত্রা কমাতে পারে বলেও গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে।

চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেটে এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ধরনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডির কার্যকারিতা জানার এ গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা।

তারা ফাইজারের একটি ডোজ বা তিনমাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ নেওয়া ২৫০ জনের রক্তে অ্যান্টিবডির মাত্রা বিশ্লেষণ করেন। মানুষের শরীরের কোষে করোনাভাইরাসের প্রবেশ আটকাতে অ্যান্টিবডির সক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখতে এ গবেষকরা কোভিডের ৫টি আলাদা ধরনের ওপর এ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান।

তাদের গবেষণায় ফাইজারের একটি ডোজ নেওয়ার পর ৭৯ শতাংশ মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের মূল ধরনের বিরুদ্ধে উল্লেখ করার মতো ‘নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি রেসপন্স’ লক্ষ্য করা গেছে; বিপরীতে যুক্তরাজ্যে প্রথম শনাক্ত বি.১.১.৭ বা আলফা ধরনের বেলায় এমনটা দেখা গেছে ৫০ শতাংশের দেহে।

ডেল্টা ধরনের ক্ষেত্রে ৩২ শতাংশ আর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত বি.১.৩৫১ বা বেটা ধরনের ক্ষেত্রে আরও কম, মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষের দেহে এই ‘নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি রেসপন্স’ দেখা গেছে।

গবেষকরা মহামারী মোকাবেলায় টিকাদানের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করে বেশি সংখ্যক মানুষকে হাসপাতালের বাইরে রাখার ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

“এটা করার সবচেয়ে ভালো উপায় টিকার দ্বিতীয় ডোজ দ্রুত সরবরাহ করা এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধে যথেষ্ট কার্যকর নয় তাদেরকে বুস্টার দেওয়া. গবেষণার ফলে এমন ধারণাই পাওয়া গেছে,” বলেছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালের ইনফেকশাস ডিজিজ কনসালটেন্ট অ্যান্ড সিনিয়র ক্লিনিকাল রিসার্চে ফেলো ফর দ্য লিগ্যাসি স্টাডি এমা ওয়াল।

তাদের এ পরামর্শ ভারত কোভিশিল্ডের দুই ডোজ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন যে ব্যবধান ঠিক করেছে তার একেবারেই বিপরীত।

দেশটিতে আগে কোভিশিল্ডের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের মধ্যে ব্যবধান রাখা ছিল ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ; এখন এটি হয়েছে ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ।

দুই ডোজের ব্যবধান যত বেশি হয়, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা তত বাড়ে বলে বিভিন্ন গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলছে ভারত সরকার।

দেশটির কর্মকর্তারা এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে টিকাদান কর্মসূচি থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে রেফারেন্স হিসেবে হাজির করছেন। তারা বলছেন, দুই ডোজের মধ্যে ১২ বা তার বেশি সপ্তাহের ব্যবধানে টিকার কার্যকারিতা ৬ সপ্তাহ ব্যবধানের তুলনায় অনেক বেশি পাওয়া যায়।

যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে পাওয়া যে গবেষণার বরাত দিয়ে ভারত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই গবেষণাটি ডেল্টা ধরন নিয়ে করা হয়নি বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

সমালোচকদের ভাষ্য, হাতে পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় চাপ এড়াতেই নরেন্দ্র মোদীর সরকার দুই ডোজের মধ্যে ব্যবধান বাড়িয়ে নিয়েছে।

অন্যদিকে ফাইজার-বায়োএনটেকের একটি ডোজ নেওয়া মানুষদের দেহে আলফা ধরনের তুলনায় ডেল্টা ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর অ্যান্টিবডির মাত্রা কম পাওয়ায় যুক্তরাজ্য টিকার দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে দিয়েছে। ল্যানসেটের নতুন গবেষণাও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে।

যুক্তরাজ্যে এরমধ্যেই করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরন আগের প্রভাবশালী আলফা ধরনকে ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের (পিএইচই)। যে কারণে হাসপাতালে আগের তুলনায় রোগী ভর্তির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে তারা।

ল্যানসেট বলছে, ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন কোভিডের মূল ধরনের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি করে, ডেল্টা ধরনের বেলায় তৈরি করে তার ৫ ভাগের একভাগ।

কম বয়সীদের তুলনায় বেশি বয়সীদের শরীরে অ্যান্টিবডি কম উৎপাদিত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর মাত্রাও কমতে থাকে, বলেছে চিকিৎসা সাময়িকীটি।

 

শেয়ার