স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা, ঈদে যত্রতত্র ঘোরাঘুরি

 পার্ক-বিনোদনকেন্দ্রসহ কোথাও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক নিরাপদ দূরত্ব মানা হয়নি
সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ঈদে বাড়ি এসেছিলেন অনেকে। ঈদের ছুটি শেষ। তাই এখন ফিরতে হবে কর্মস্থলে। এরই মধ্যে আরেক দফা বেড়েছে লকডাউন। দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকায় কর্মস্থান ঢাকায় উদ্দেশে যেতে অ্যাম্বুলেন্সে গাদাগাদি করে উঠতে দেখা গেছে। ছবিটি গতকাল যশোর শহরের খাজুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে তোলা– এইচ আর পরাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের ভেতরও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যত্রতত্র বেপরোয়া ঘোরাঘুরির মধ্য দিয়ে ঈদ উদ্যাপন করেছে যশোরবাসী। পার্ক-বিনোদনকেন্দ্রসহ কোথাও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক নিরাপদ দূরত্ব মানা হয়নি। ঈদের দিনসহ পরবর্তী দুই দিনের উৎসব উদ্যাপনের দৃশ্য চিত্র ছিল এরকমই।

ঈদের দিন বিকেলে শহরে নামে মানুষের ঢল। আর এরকম জনারণ্যে বের হওয়া বেশির ভাগ মানুষই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেননি। বিশেষ করে এদিন স্বাস্থ্যবিধি সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘন হয় শহরের প্যারিস রোডে (সাবেক বাঁশহাটা)। বিকেল গড়ালে রোডটিতে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি এমন হয় রোডটিতে যেন ‘তিল ধারণেরও ঠাঁই নেই’। একপর্যায়ে মানুষের ভিড়ে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, রিকসা আর ইজিবাইকের জট বেঁধে যায়। ঠেলাঠেলি আর হুড়োহুড়ির মধ্যে সঙ্গে আসা একে অন্যকে হারিয়েও ফেলেন কেউ কেউ। পরে এমন পরিস্থিতির খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে হাজির হন। তাদের হস্তক্ষেপে রোডটিতে মানুষের চাপ অনেকটা কমে আসে।

সরেজমিন দেখা যায়, প্যারিস রোডে বেড়াতে আসা অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না। কেউ কেউ আবার থুতনিতে মাস্ক লাগিয়ে ঘোরাঘুরি, আড্ডায় মেতে ছিলেন। এদিকে, পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে মানুষজনের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতন। সেখানেও অধিকাংশের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা ছিল তুলনামূলক কম। অনেককে মাস্ক ছাড়াই প্রবেশ করতে ও ঘুরতে দেখা যায়। দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়েও যশোরের বিভিন্ন প্রান্তে ঈদ উৎসব পালনের দৃশ্যচিত্র ছিল এমনই।

অন্যদিকে, যশোর শহরের আরেক পছন্দের জায়গা বিমানবন্দর এলাকায়ও ছিল মানুষের ভিড়। ঈদের দিন ও পরের দুই দিনও এয়ারপোর্ট হাইওয়ে ও এর আশপাশেও দর্শনার্থীদের ভিড় জমে। এখানেও দেখা যায়, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ দূরত্ব বিধি মানার কোনো বালাই নেই। মাস্কবিহীন, গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে বহু মানুষকে সেখানে ঘুরতে দেখা যায়।

এসবের পাশাপাশি শহরের ক্যাফেগুলোতেও প্রচুর ভিড় ছিল। সেখানেও ছিল রীতিমত স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন। মিনি চাইনিজ ও ফাস্টফুডের দোকানগুলো কাস্টমারে (ক্রেতা) পরিপূর্ণ ছিল। অথচ লকডাউন সংক্রান্ত সরকার ঘোষিত পরিপত্রে হোটেল-রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাওয়ার ব্যাপারে বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। এসব ছাড়াও অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করা বাস-মিনিবাসেও মানা হয়নি কোনো বিধিনিষেধ। এক সিট খালি রেখে গণপরিবহন চালানোর নির্দেশনা থাকলেও যাত্রী বোঝাই করে বাস-মিনিবাস চলাচল করেছে। যাত্রী বোঝাই বাসে চেপেই মানুষজন ঈদে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যাতায়াত করেছে। দেখা গেছে, গণপরিবহনে চলাচলকারী অনেকের মুখেই মাস্ক ছিল না।

শেয়ার