পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন: স্বাভাবিক রয়েছে বেনাপোল বন্দর

বেনাপোল প্রতিনিধি
ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি চালু রয়েছে; এছাড়া কোভিড-১৯ সংক্রমণের বিস্তার রোধে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রোববার থেকে লকডাউন শুরু হলেও বন্দরে এর কোনো প্রভার পড়েনি।
বেনাপোল শুল্কভবনের চেকপোস্ট কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস জানান, ঈদের তিন দিনের ছুটি শেষে রোববার সকাল থেকে পেট্রাপোল ও বেনাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি রপ্তানি শুরু হয়েছে।
বন্দরের পণ্য উঠানামা ও খালাস প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, ওপারে রোববার থেকে লকডাউন শুরু হওয়ায় আমরা শঙ্কায় ছিলাম সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকবে কি না?
তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুদেশের সীমান্ত বানিজ্য চালু থাকছে বলে ওপারের বন্দর ব্যবহারকারিরা জানিয়েছেন।
পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক রোববার থেকে ১৫ দিনের লকডাউন দেওয়া হয়েছে।

“কিন্তু এতে আমদানি রপ্তানিসহ সীমান্ত বাণিজ্যের উপর কোন প্রভাব পড়বে না।”
এদিকে পেট্রাপোল বন্দরের ট্রাক টার্মিনাল, পেট্রাপোল পার্কিং ও বনগাঁও টার্মিনালে কয়েকশ পণ্য বোঝাই ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শশাঙ্ক শেখর ভট্টাচার্য জানান।

তিনি বলেন, “এসব ট্রাকের অধিকাংশতেই বাংলাদেশের শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে।”

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন তরফদার বলেন, “বন্দরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রণে সতর্ক রয়েছি। ভারতীয় ট্রাকে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে ও থার্মাল স্ক্যানারে চালক ও তাদের সহকারীদের শরীরের তাপমাত্রা যাচাইয়ের পরই তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য কাজকর্মও স্বাস্থ্যবিধি করা হচ্ছে।
পণ্য উঠা-নামাসহ আমদানি পণ্যচালান বন্দর থেকে দ্রুত ডেলিভারি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবিব বলেন, উভয় দেশে লকডাউন বহাল থাকলেও আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট খোলা রয়েছে। তবে বিধিনিষেধ থাকায় বিদেশিরা দেশে ঢুকতে পারবেন না।
“শুধুমাত্র ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরাই কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপ-হাইকমিশনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে ফেরত আসতে পারবেন। আর বাংলাদেশে আসা ভারতীয়রা ফিরতে পারবেন।”
প্রতিদিন পেট্রাপোল বন্দর থেকে তিনশ থেকে সাড়ে চারশ ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে বেনাপোলে ঢোকে। আবার বেনাপোল দিয়ে দুইশ থেকে তিনশ ট্রাক রপ্তানি পণ্যচালান ভারতে যায়।

শেয়ার