লিটনের ভাবনায় ‘১০ ওভার খেলা’

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভিত্তিটা শক্ত হলেই গড়ে তোলা যায় সুউচ্চ সৌধ্য। ক্রিকেটের চিরায়ত এই সত্যই এখন লিটন দাসের ভাবনা জুড়ে। সামনের শ্রীলঙ্কা সিরিজে তার চাওয়া, প্রথম ১০ ওভার উইকেটে কাটিয়ে দেওয়া। স্টাইলিশ ওই ওপেনারের বিশ্বাস, প্রথম লক্ষ্যে সফল হলেই ধরা দেবে আরও বড় প্রাপ্তি।

বাংলাদেশ দলে লিটন এখন নিয়মিত একজন, কিন্তু এখনও হয়ে উঠতে পারেননি ভরসার জায়গা। সামনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ, সব ঠিকঠাক থাকলে তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংস শুরু করবেন তিনিই। কিন্তু পারফর্ম কতটা করত পারবেন, সেই সংশয় জাগাচ্ছে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। ওয়ানডেতে এই বছর তিনি একদমই ছন্দে নেই।

যদিও গত বছরের মার্চে জিম্বাবুয়ে সিরিজে দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরি তিনি উপহার দিয়েছিলেন। প্রথম ম্যাচে ১০৫ বলে ১২৬ রানের অপরাজিত ইনিংসের পর তৃতীয় ওয়ানডেতে খেলেন ১৪৩ বলে ১৭৬ রানের ইনিংস, ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড সেটি। তাকে নিয়ে দেশের ক্রিকেটের আশাও তখন বেড়ে গিয়েছিল, হতাশার দীর্ঘ পালা শেষে এবার হয়তো ধারাবাহিক হবেন!

কিন্তু হয়েছে উল্টো। ওই সিরিজের পর ৬ ওয়ানডে খেলে একটিতেও ২৫ ছুঁতে পারেননি, দুইবার আউট শূন্যতে।

নিজের ওপর তার বিশ্বাসের যদিও কমতি নেই। সেই জিম্বাবুয়ে সিরিজই এখনও তার প্রেরণার জ্বালানী। সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলনের ফাঁকে বিসিবির ভিডিও বার্তায় তিনি বললেন, নতুন বল সামলাতে পারলেই ধরা দেবে বড় ইনিংস।

“নিজের খেলা এখন আগের চেয়ে ভালো বুঝি। নিয়মিত যে জিনিসটি আমি ধরে রাখি, এখন অনুশীলন করছি, সেটা হচ্ছে, সাদা বলের ক্রিকেটে যেহেতু ওপেন করি, নতুন বল আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ১০ ওভার যদি খেলে নিতে পারি, তারপর আমার জন্য কাজটা সহজ হয়ে যায় এবং আমি বড় ইনিংস খেলতে পারি। এটা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে উপলব্ধি করেছি। এটা অনেক আত্মবিশ্বাস দেয়।”

“অনুশীলনে একটা ব্যাপারই থাকে, আমাকে নতুন বলের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে এবং সেটাই করছি। ১০ ওভার সফল হলে, ১৫ থেকে ৪০ ওভার আমার জন্য খুবই সহজ। আমি জানি আমার সামর্থ্য কতটা। গত দুই দিন রায়ান কুকের (ফিল্ডিং কোচ) সঙ্গে কাজ করলাম লং হিট করা নিয়ে। নতুন কিছু নিয়ে কাজ করছি।”

তার প্রস্তুতির বড় একটা অংশজুড়ে থাকে ফিল্ডিংও। টেস্টে এখন তিনি নিয়মিতই কিপিং করছেন। সীমিত ওভারে সেই দায়িত্ব মুশফিকুর রহিমের, লিটনকে তখন ফিল্ডিং করতে হয় মাঠের নানা প্রান্তে। কাজটা কঠিন। তবে লিটনের দাবি, সংস্করণ ভেদে এই দ্বৈত দায়িত্ব তিনি উপভোগ করছেন।

“আমি ফিল্ডিংকে দুইভাবেই দেখি। গ্লাভস হাতে থাকলে একরকম চিন্তাধারা থাকে, গ্লাভস ছাড়া আরেকরকম। গ্লাভস হাতে থাকলে দায়িত্ব অনেক বড় থাকে। দলটাকে সামলানো, নিজের দায়িত্ব থাকে, ক্যাচ ধরা, স্টাম্পিং করা, ওসবে মনোযোগ বাড়ে তখন। আবার সাদা বলে যখন খেলি, তখন আমার ভূমিকা থাকে রান বাঁচানো, ক্যাচ নেওয়া, লাইনে ফিল্ডিং করা। ওই ভূমিকাও আমি উপভোগ করি। দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।”

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু আগামী ২৩ মে।

শেয়ার