মেধাস্বত্ত্ব ছাড়ের সুযোগ নিতে পারে চীন-রাশিয়া, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

সমাজের কথা ডেস্ক॥ দরিদ্র্য দেশগুলোর সহায়তায় কোভিড-১৯ টিকার মেধাস্বত্ত্ব শিথিল হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বায়োফার্মাসিউটিক্যালস প্রযুক্তি রাশিয়া ও চীনের দখলে চলে যেতে পারে বলে উদ্বেগে রয়েছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন।

রয়টার্স বলছে, এই সুযোগ নিয়ে চরম প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরাশক্তির আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা কীভাবে অংকুরেই বিনষ্ট করা যায় তার পথ খোঁজা হচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও শিল্পখাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দরিদ্র্য দেশগুলোর সহজে করোনাভাইরাস টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতে এবং দেশগুলোর নিজেদের টিকা উৎপাদনের সুযোগ দিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) টেবিলে ওঠা মেধাস্বত্ত্ব ছাড়ের প্রস্তাবে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র সায় দেয়।

এখন পর্যন্ত বিশ্বে উৎপাদিত টিকার সিংহভাগই ধনী দেশগুলো পেয়েছে। এর ফলে সেসব দেশে এ বছরের শুরুর দিত থেকেই কোভিড-১৯ এর প্রকোপ কমতে শুরু করে।

কিন্তু বিশ্বের অন্তত ৩৬টি দেশে এখনও সংক্রমণ বেড়েই চলেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছে ভারত। সেখানে দৈনিক গড় সংক্রমণের হার চার লাখ ছাড়িয়েছে।

ভাইরাসের টিকা উদ্ভাবনের জন্য সরকারি সহায়তা পাওয়া পশ্চিমা বিশ্বের ওষুধ কোম্পানিগুলো এই টিকার মেধাস্বত্ত্ব শিথিলের ঘোর বিরোধিতা করছে। তাদের ভাষ্য হচ্ছে, দরিদ্র্য দেশগুলো দ্রুত টিকার উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন এবং ঘাটতি পূরণের মতো উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না।

শুক্রবার ফাইজারের প্রধান নির্বাহী অ্যালবার্ট বোরলা বলেন, প্রস্তাবিত ‘পেটেন্ট’ শিথিলের সিদ্ধান্ত টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে অর্জিত অগ্রগতি বিঘিœত করতে পারে।

“একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকা উৎপাদনে আমাদের যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যুক্ত করা জরুরি, সেটায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এই সিদ্ধান্ত।”

টিকা উদ্ভাবনের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে দরিদ্র্যদেশগুলোতে এর উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনেক কোম্পানির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কমকর্তারও আশঙ্কা, পেটেন্ট শিথিল করার পদক্ষেপ চীনকে গবেষণায় কয়েক বছর এগিয়ে দিতে পারে। ফলত বায়োফার্মাসিউটিক্যালসে যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে যেতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইডেনের প্রশাসন বিশ্বাস করে ডব্লিউটিওতে আলোচনার মাধ্যমে তারা এসব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাগুলো সমাধানের পথ বের করতে পারবে। কিন্তু কীভাবে হবে তা বিস্তারিত জানায়নি।

একটি সূ্ত্েরর বরাতে বলা হয়, বাইডেন প্রশাসনের কিছু সংস্থার এ বিষয়ে দ্বিধাবিভক্ত দৃষ্টিভঙ্গি আছে।

এ বিষয়ে ফাইজার ও মডার্না মন্তব্য করতে রাজি না হলেও নোভাভ্যাক্সের এক মুখপাত্র শুক্রবার বিবৃতিতে বলেন, “পেটেন্ট শিথিল করার প্রস্তাব সবার জন্য সমানভাবে টিকাপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবে না।”

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, একবার হস্তান্তর হয়ে যাওয়ার পর সেই প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত রাখার পদক্ষেপ কার্যকর করা খুব কঠিন।

ফাইজার/বায়োএনটেক এবং মডার্নার উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ টিকায় মেসেঞ্জার আরএনএর ব্যবহার বায়োটেকনোলজিতে একটি নতুন উদ্ভাবন যার সম্ভাবনা টিকা উৎপাদনের চেয়েও সুদূরপ্রসারী।

চীন ও রাশিয়ার নিজস্ব উদ্ভাবিত টিকা থাকলেও সেখানে এই বায়োটেকনোলজি ব্যবহার করা হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং চীনে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা গ্যারি লককে বলেন, “এসব টিকা উদ্ভাবনে ফাইজার ও মডার্নার বছরের পর বছর গবেষণা করতে হয়েছে। এখন চীন, রাশিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অন্যান্য দেশ এই প্রযুক্তি হাতে পেতে চাইছে।

“তাদের লক্ষ্য হলো এর ভেতরকার কলা-কৌশলগুলো জেনে নেওয়া যাতে ভবিষ্যতে তারা আরও বিভিন্ন টিকা তৈরি করতে পারে।”

কোভিড-১৯ টিকা উদ্ভাবনের বিষয়ে চীনের ফোসুন ফার্মা এরই মধ্যে বায়োএনটেকের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে, যা এ ধরনের প্রযুক্তিতে তাদের কিছুটা হলেও প্রবেশাধিকার দেবে।

নিজের ওষুধ শিল্পখাত নিয়ে চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে এবং তারা এরইমধ্যে নিজস্ব এমআরএনএ নির্ভর টিকা উদ্ভাবনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 

শেয়ার