যশোরে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট শনাক্ত

 বেনাপোল বন্দর দিয়ে আসা দুই যাত্রীর নমুনায়
মিলেছে নতুন এ ধরণ, আক্রান্তরা যশোর হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভরত থেকে আসা দুই বাংলাদেশির শরীরে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট (ধরণ) শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে নমুনা সিকুয়েন্সিং করে শনিবার দুপুরে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন এবং জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক ও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানাও শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি বেনাপোল বন্দর হয়ে ভারতফেরত কয়েকজনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন বিন্যাস বিশ্লেষণ করা হয়। তার মধ্যে দুটি নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়।
যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ভারতফেরত করোনার রোগীর নমুনায় ভারতীয় ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। ল্যাবে কিছু সিকোয়েন্স করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স করার প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি আমরা আইইডিসিআরকে (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট) জানিয়েছি। পাশাপাশি যশোর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করেছি।

যবিপ্রবি জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক ও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে ভারতফেরত ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছে। আর এদের মধ্যে দু’জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভেরিয়েন্ট বি-১.৬১৭.২ এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে এটি ডাবল মিউটেশন নয়। তবে যেহেতু একটি এসেছে, ফলে ডাবল মিউটেশন বা অন্য ভেরিয়েন্টও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ আরও উল্লেখ করেছেন, যদিও শনাক্ত হওয়া ভেরিয়েন্টটি ডাবল মিউটেশন নয়। কিন্তু এটিই ভারতে ২০ ভাগ এবং যুক্তরাজ্যে ৫৯ ভাগ ছড়িয়েছে।
প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ আরও জানিয়েছেন, কোন রোগীর নমুনায় এই ভেরিয়েন্ট এসেছে; তা যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা এই রোগীদের আলাদাভাবে আইসোলেশনে রেখেছে।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়ের সঙ্গে। তিনি জানান, করোনা রোগীর ভারতীয় ভেরিয়েন্টের কোনো তথ্য আইইডিসিআর থেকে তারা পাননি। আইইডিসিআর থেকে তথ্য পাওয়ার পরই তারা এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সম্প্রতি বেনাপোল বন্দর হয়ে ভারতফেরত কয়েকজনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন বিন্যাস বিশ্লেষণ করা হয়। তার মধ্যে দুটি নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের পরীক্ষায় একই ফল পেয়েছে জানিয়ে নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেশি। তাই মানুষকে খুবই বেশি সতর্ক থাকতে হবে।’
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ৬ মে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে ভারতফেরত ১৬ জনের নমুনা পাঠানো হয়। নমুনা পরীক্ষা করে তাদের ৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়।

অধ্যাপক আনোয়ার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক মো. ইকবাল কবীর জাহিদের নেতৃত্বে গবেষকরা জেনেটিক সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করেন। তাতে দুজনের শরীরে পাওয়া করোনাভাইরাস যে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। ‘স্যাম্পল অ্যানালাইসিস করার পর আমরা দুজনের শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বি১.৬১৭.২ পেয়েছি। আক্রান্তদের একজন নারী, একজন পুরুষ।’ ভারতীয় নতুন ধরনটির আরও বেশি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সীমান্তে আরও কড়াকড়ি আরোপের পরামর্শ দেন তিনি। ‘বর্ডার পুরো বন্ধ করতে হবে। ভারত থেকে আসা পণ্যের সঙ্গেও লোকজন যাতায়াত করছে। এই মিক্সিংটাও কেয়ারফুলি হ্যান্ডেল করতে হবে। বর্ডার অঞ্চলের মানুষকে দ্রুত টিকা দিতে হবে।’

 

 

শেয়ার