করোনা এড়াতে ঘরে বসে অনলাইনে ঈদের কেনাকাটা করছেন অনেকেই

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ করোনার মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে যশোরের অনেক ক্রেতা দোকানে কেনাকাটার পরিবর্তে অনলাইনে কেনাকাটাকেই নিরাপদ মনে করছেন। ফলে অনলাইনে অর্ডার বেড়েছে বহুগুণ। ঈদের কেনাকাটার জন্য শপিংমলগুলো খোলায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক সচেতন নাগরিক মার্কেট এড়িয়ে চলছেন। ফলে এসব সচেতন নাগরিকদের ঈদের কেনাকাটার একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে অনলাইনের বিভিন্ন ই-কমার্স ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে।

অন্যদিকে কোন কোন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের পণ্য ক্রয়ের বিপরীতে নগদ ছাড়, ক্যাশব্যাক ও উপহার দিচ্ছে। আবার কোন কোন প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে গিফট ভাউচার। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে মার্কেটে শপিং করতে যাওয়ার চেয়ে ঘরে বসেই কেনাকাটার অবারিত সুযোগ এসেছে। আবার কিছু কিছু ই-কমার্স ও মার্কেটপ্লেস থেকে ক্রয় করা পণ্য বিনামূল্যে বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে।

যশোরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মাহামুদা হাসান। তিনি বলেন, করোনাকালে বাইরে যাওয়া বিপজ্জনক। কিছু দিন পরে ঈদ তাইতো বিপদ এড়িয়ে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি, সেইলর, ইয়োলো, আড়ং অনলাইন ঘুরে বাবা, মা, ভাই ও বোনদের জন্য ঈদ উপলক্ষে পছন্দের পোশাক কিনেছি।
আনোয়ার জাহিদ এবার ঈদের জন্য পছন্দের পাঞ্জাবি কিনেছেন ফেসবুকের একটি কেনাবেচার পেজ থেকে। তিনি জানালেন, করোনাকালে শপিংমলে যাওয়া অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। তাইতো বিপদ এড়িয়ে কেনাবেচা পেজ থেকে পাঞ্জাবি কিনেছি। তাছাড়া অনলাইনে অনেক ছাড়ে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে।

অনলাইনে পোশাকের দাম কমের বিষয়টি আনোয়ার জাহিদ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, শপিংমলের বিক্রেতারা পাঞ্জাবির দামের সাথে দোকানের ভাড়াও যোগ করে রাখেন। তাই তাদের ওখানে দাম বেশি। দোকানে থাকা একই পাঞ্জাবি অনলাইনে একটু কম দামে কেনা যায়। মানের দিক দিয়ে কোনো পার্থক্য নেই।

প্রত্যাশা ইসলাম বলেন, ঝুট-ঝামেলা এড়িয়ে অনলাইনে ঈদের শপিং করছি। এক জায়গায় অনেক পোশাক মুহূর্তের মধ্যে দেখতে পারছি। তার মধ্যে থেকে বেছে বেছে কিছু পোশাক অর্ডার করেছি। তবে তিনি মনে করেন, সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে মার্কেটে শপিং করতে যাওয়ার চেয়ে ঘরে বসেই অনলাইনে কেনাকাটা করা বিপদমুক্ত। এতে নিজে ও পরিবার করোনাভাইরাস আশঙ্কা মুক্ত এবং সময় ও কষ্ট দুটোই লাঘব হচ্ছে।

রিপন হোসেন ও তার স্ত্রী এনিয়া প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘পরিবারের সবার জন্য ঈদ উপলক্ষে পোশাক কিনেছি বিভিন্ন ওয়েবসাইড ঘুরে। অনলাইনে কেনাকাটার বিশেষ সুবিধা আছে। সারাদিন মার্কেট ঘুরে কেনাকাটা করতে হয় না। পরিবারে সবাই একই জায়গায় বসে পোশাক কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।’

শেয়ার