বিপণি বিতানে পাঞ্জাবির নানা কালেকশন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ উৎসবের সাথে পোশাকের ঘনিষ্ঠতা সবসময়ের। বছরের অন্য দিনগুলো থেকে উৎসবের দিনটিতে প্রতিটি মানুষই চায় নিজেকে একটু বিশেষভাবে সাজাতে। পোশাক যার অন্যতম মাধ্যম। আর ছেলেদের ঈদ মানেই নতুন পাঞ্জাবি। তাইতো ঈদ ঘিরে পাঞ্জাবির নানা কালেকশনে সেজেছে যশোরের বিপণি বিতানগুলো। গ্রীষ্মের ভেতর এবারও ঈদ। তাই গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে পাঞ্জাবির কাপড় রং ডিজাইন হাতের কাজে বৈচিত্র্য এনেছে শপিং মার্কেটগুলো। বিক্রেতারা বলছে বেচাবিক্রি মোটামুটি ভালো। এবারের ঈদে দেশীয় স্টাইলের পাশাপাশি পাঞ্জাবির বাজার দখল করে রেখেছে পাকিস্তানি ও ভারতীয় পাঞ্জাবি। ক্রেতারা বলছেন, দাম কিছুটা বেশি হলেও, দোকান ঘুরে একটু দরদাম করে কিনতে হচ্ছে পছন্দসই পাঞ্জাবি।

যশোর শহরের মুজিব সড়ক, এইচএমএম আলী রোড, জেস টাওয়ার, সিটিপ্লাজা, কালেক্টরেট মার্কেট, কাপুড়িয়া পট্টিসহ বিপণি বিতানগুলোতে ঈদের বাজার জমে উঠেছে। ঈদ সামনে রেখে ফ্যাশন সচেতন তরুণদের জন্য নানা নকশা আর কাপড়ের পাঞ্জাবি নিয়ে ঝলমল করছে শহরের বুটিক হাউসগুলো। বছরজুড়ে বাজারে পাঞ্জাবি থাকলেও ঈদের সময় এর চাহিদা থাকে তুঙ্গে। রং-নকশায় এসেছে নতুনত্ব। এছাড়া দর্জি বাড়িতেও চলছে পুরোদমে ঈদের কাজ। লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকায় যথা সময়ে পোশাকের ডেলিভারি দেয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন টেইলার্স মালিকরা। সব মিলিয়ে সরগরম যশোরের ঈদ বাজারের পাঞ্জাবি হাউসগুলো। এদিকে, চলতি মৌসুমে টানা কয়েকদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো যশোর অঞ্চলে। প্রখর রোদে পুড়েছে প্রকৃতি। এ বছর দেখা মিলেনি ঝড়-বৃষ্টির। তবে, টানা কয়েক মাসের অসহনীয় গরমের পর মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। ফলে সকালের দিকে যশোরের বিভিন্ন মার্কেটে অন্য দিনের চেয়ে এদিন ক্রেতাদের উপস্থিতি কম ছিলো। বৃষ্টি পড়া বন্ধ হলে দুপুরের দিকে আবার ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায় প্রায় প্রতিটি মার্কেটে।

শহরের মুজিব সড়ক এলাকার রূপকথা ফ্যাশন হাউসের ব্যবস্থাপক আরিফ হোসেন জানান, গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের পাশাপাশি সুতির কাজের পাঞ্জাবি সংগ্রহে রাখা হয়েছে। এছাড়া উৎসবে যারা জমকালো রং ডিজাইনের পাঞ্জাবি পছন্দ করেন তাদের জন্য রয়েছে ভারি কাজের পাঞ্জাবির কালেকশন। এবার পাঞ্জাবির নকশায় দেখা যাচ্ছে ফুলেল আবহ। মোগল স্থাপত্যের অলঙ্করণ যেমন রয়েছে, তেমনি আছে ফুলসহ লতাপাতার নকশাও। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এবার ঈদ হওয়ায় সুতি কাপড়ের পাঞ্জাবির প্রতি ক্রেতাদের বেশি আগ্রহ। সুতির প্রতি আগ্রহ বেশি থাকলেও খাদি, এন্ডি, এন্ডিসিল্ক কাপড়ের প্রতিও ক্রেতাদের দৃষ্টি রয়েছে বলে জানান তিনি।

মুজিব সড়কে ইজি ফ্যাশান হাউজের বিক্রয়কর্মী ফয়সাল হোসেন জানান, আমাদের এখানে লং, সেমি লং, স্ট্রেইট কার্ট, শেরওয়ানি কার্টসহ রকমারি ডিজাইনের এক্সক্লসিভ সব পাঞ্জাবি সংগ্রহে রেখেছি। তরুণদের বেশির ভাগই বাহারি রঙ ডিজাইনের পাঞ্জাবি কিনছেন ঈদ উৎসব রাঙাতে। এখানে ১৫শ’ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি এবারের ঈদের বাজার বাজিমাত করছে।

কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের পাঞ্জাবি হাউজের বিক্রেতা নূর বলেন, রাজশাহী সিল্ক, এন্ডি কটন (খদ্দর), ব্লক, সুতি কাপড়ের পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। ঈদে ছেলেদের পছন্দের শীর্ষে থাকে পাঞ্জাবি। এবারো তার ব্যত্যয় ঘটেনি। নানা ডিজাইনের, নানা ফ্যাশনের পাঞ্জাবি ক্রয় করছেন ক্রেতারা। এবারের ঈদে লং, সেমি লং, ন্যারো ও শর্ট পাঞ্জাবির কদর বেশি।

আশরাফুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, যেই পোশাক কেনা হোক না কেন ঈদের নামাজের জন্য পাঞ্জাবি লাগেই। এছাড়া পাঞ্জাবি এমনই একটা পোশাক যা গ্রীষ্ম, বর্ষা কিংবা শীত সব মৌসুমেই পরা যায়। তবে গরমে একটু বেশি প্রশান্তি মেলে এ পাঞ্জাবিতে। তাই কেনাকাটার ইতি টানতে শেষ মুহূর্তে এসেছেন পাঞ্জাবি কিনতে। তবে দাম একটু বেশিই মনে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এ ক্রেতা দম্পতি।

খাইরুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, গরমের মধ্যে ঢিলেঢালা পোশাক পাঞ্জাবি বেশ আরামদায়ক। এর পাশাপাশি পাঞ্জাবি যথেষ্ট ফ্যাশনেবল একটি পোশাক। রোদ গরমের দিনে ঈদ, তাই হালকা রঙের হাতের কাজ করা একটা পাঞ্জাবি পছন্দ করছি। আর উৎসবের পোশাক বলে কথা। তাই ছেলের জন্য রঙচঙের একটা পাঞ্জাবি খুঁজছি।

মুজিব সড়কের ফ্যাশন কাঁশবনের বিক্রয়কর্মী ইব্রাহিম হোসেন। তিনি জানান, বয়স্কদের পাশাপাশি তরুণরাও এবার হালকা রঙের দিকে ঝুঁকছেন গরমের কারণে। অন্যবার শর্ট পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি দেখা গেলেও এবার তুলনামূলক কম, তবে লং, সেমি লংয়ের কদর এবার বেশি দেখা যাচ্ছে।

শেয়ার