অপেক্ষার বৃষ্টিতে যশোর অঞ্চলে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ চলতি মৌসুমে কয়েকদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো যশোর অঞ্চলে। প্রখর রোদে পুড়েছে প্রকৃতি। এ বছর দেখা মেলেনি ঝড়-বৃষ্টির। তবে, টানা কয়েক মাসের অসহনীয় গরমের পর সোমবার রাত ১০ টার পর বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যশোর অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ নেমেছিলো স্বস্তির বৃষ্টি। তবে শুধু যশোর অঞ্চল নয়, বৃষ্টির খবর এসেছে খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলায়ই। আর এই বৃষ্টি ও বাতাসে উত্তপ্ত প্রকৃতি বেশ শান্ত হয়ে এসেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত যশোরে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৩ থেকে ৪ দিন সন্ধ্যার পরে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে, ভারিবৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়ে মঙ্গলবার সকালেও গুড়িগুড়ি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে। দুপুর ১২ টা পরে বৃষ্টিপাত বন্ধ হওয়ার পরে দেখা মেলে সূর্যের। কয়েক ঘণ্টার গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির ফলে শহরের জীবনে কিছুটা স্বস্তি আনে। শীতল বাতাসে প্রশান্তি বিরাজ করে এদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, মঙ্গলবার যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেখানে দু’দিন আগেরও তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রির আশেপাশে।

এদিকে, স্বস্তির বৃষ্টি শহরে বিরাজ করলেও গ্রাম অঞ্চলে কেটে রাখা বোরো ধানে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সরসকাঠি গ্রামের কৃষক আকবর হোসেন বলেন, কয়েকদিন ধরে খুব গরম পড়েছে। তীব্র তাপদাহের মধ্যেই রোদে পুড়ে বোরো ধান কেটেছি। সোমবারও কিছু ধান কেটেছি। এই বৃষ্টিতে আহামরি তেমন কোন ক্ষতি হবে না। তবে যাদের মাঠে ধান কাটা রয়েছে, বৃষ্টিতে তাদের ধানের রঙ কিছুটা নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে বর্তমান ধানের বাজার দরের থেকে কিছুটা দাম কম পাবেন তারা। তিনি আরো বলেন, বৈশাখের তাপদাহে মাঠঘাট ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বৃষ্টির ফলে আম-লিটু ও পাট বেশ ভালো হবে বলে জানান এই কৃষক।

শহরের দড়াটানায় শমসের মোড়ল নামে এক রিকসা চালক বলেন, গেল কিছুদিন ধরে প্রচ- গরম পড়েছে। বাইরে আসার পর গরমে ঘেমে গোসল হয়ে গেছি। সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ায় একটু স্বস্তি পেয়েছি। এই বিষয়ে যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ^াস বলেন, যশোরে যে বৃষ্টি হয়েছে সেটা জনমনে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। যশোর অঞ্চলে বোরো ধান ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কৃষকদের বাড়িতে পৌছে গেছে। ফলে এই বৃষ্টিতে কৃষিতে কোন ক্ষতি হওয়ার কোন কারণ দেখছি না। তবে, বৃষ্টির ফলে মাঠের ফসলের উপকার হবে। বিশেষ করে পাট চাষিরা বেশি উপকৃত হবেন।

শেয়ার