শিবচরে স্পিডবোড ডুবি, নিহত ২৭

বাল্কহেডের সাথে ধাক্কা লেগে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

সমাজের কথা ডেস্ক॥ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ীর বাংলাবাজার পুরোনো ঘাটে বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্পিডবোট ডুবিতে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২২ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহত ৪ জন চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার (০৩ মে) সকাল ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ২৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিবচর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ শ্যামল বিশ্বাস জানান, শিমুলিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে একটি স্পিডবোট বাংলাবাজারের দিকে যাচ্ছিল। কাঁঠালবাড়ি (পুরাতন ফেরিঘাট) ঘাটের কাছে পৌঁছালে স্পিডবোটটি একটি বাল্কহেডের (বালু টানা কার্গো) পেছনে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়।

এ ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জীবিত উদ্ধার হওয়া ৫ জনের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। মরদেহগুলো পুরান কাঁঠালবাড়ি ঘাটে রাখা হয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্পিডবোটে ৪০জন ছিল বলে জানা গেছে।

কোস্টগার্ড সদর দফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার আমিরুল হক বলেন, সমন্বিত চেষ্টায় এখন পর্যন্ত একজনকে জীবিত এবং ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর বাইরে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। জীবিত পাঁচ জনের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মারা গেছেন।
তিনি আরও বলেন, এখনও কতজন নিখোঁজ রয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি ওই স্পিডবোটে যাত্রী ছিল ৪০ জনের মতো।

এদিকে, স্পিডবোট ডুবিতে নিহত ২৬ জনের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন-খুলনার তেরখাদা উপজেলার বারুখালির মনির মিয়া (৩৮), হেনা বেগম (৩৬), সুমি আক্তার (৫) ও রুমি আক্তার (৩), ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙা গ্রামের আরজু শেখ (৫০) ও ইয়ামিন সরদার (২), মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার সাগর ব্যাপারী (৪০), কুমিল্লার দাউদকান্দির কাউসার আহম্মেদ (৪০) ও রুহুল আমিন (৩৫), মাদারীপুর জেলার রাজৈরের তাহের মীর (৪২), কুমিল্লা তিতাসের জিয়াউর রহমান (৩৫), মাদারীপুরের শিবচরের হালান মোল্লা (৩৮) ও শাহাদাত হোসেন মোল্লা (২৯), বরিশালের তেদুরিয়ার আনোয়ার চৌকিদার (৫০), মাদারীপুর রায়েরকান্দি মাওলানা আব্দুল আহাদ (৩০), চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলব মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫), নড়াইলের লোহাগড়া রাজাপুর জুবায়ের মোল্লা (৩৫), মুন্সিগঞ্জ সদরের সাগর শেখ (৪১), বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের সায়দুল হোসেন (২৭) ও রিয়াজ হোসেন (৩৩), ঢাকা পীরেরবাগ খেরশেদ আলম (৪৫), ঝালকাঠি নালসিটির এসএম নাসির উদ্দীন (৪৫), বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জের মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫), পিরোজপুরের চরখামার মো. বাপ্পি (২৮), পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার জনি অধিকারী (২৬)। এরমধ্যে ২২ জনের মরদেহ স্বজনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহত হয়েছেন চারজন। মাদারীপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনা তদন্তে দুপুরে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন। কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলামকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবেন।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশাদুজ্জামান, শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন, শিমুলিয়া বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন, মাদারীপুর শিবচর চরজানাজাত নৌ-পুলিশ ইনচার্জ শেখ মো. আব্দুর রাজ্জাক ও নারায়ণগঞ্জ পাগলা বাংলাদেশ কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. আসমাদুল। এদিকে স্পিডবোট চালক শাহ আলমকে অসুস্থ অবস্থায় শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

শেয়ার