দ্রুতই চালু হচ্ছে বন্ধ পাটকল

 শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের সুখবর দিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী

সমাজের কথা ডেস্ক॥ লোকসান সামলাতে বন্ধ করা বিজেএমসির আওতাধীন পাটকলগুলো আবার চালু ও শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের সুখবর দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।
বুধবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের আওতাভুক্ত বন্ধ পাটকলগুলো দ্রুততম সময়ে ভাড়াভিত্তিক ও ইজারা পদ্ধতিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আবার চালুর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এজন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
“আন্তর্জাতিক বিজ্ঞপ্তির আওতায় দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা লিজ গ্রহণের সুযোগ পাবে। তবে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

লোকসান সামাল ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ২০২০ সালের এক জুলাই থেকে বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর বলেন, “পৃথিবী জুড়ে পাটের কদর ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা বর্তমানে কাঁচা পাটের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। চলতি পাট মৌসুমে কাঁচা পাটের গড় দর তিন হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। ফলে পাটচাষীরা এ মৌসুমে অধিক পরিমাণে পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছে।”
মন্ত্রণালয়ের এক তথ্যবিবরণিতে জানানো হয়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৯৫৩ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এই অংক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি।

মন্ত্রী বলেন, “বেসকারি ব্যবস্থাপনায় পুনঃচালুকৃত মিলে অবসায়নকৃত শ্রমিকেরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাবে। একই সাথে এসব মিলে কর্মক্ষম ও দক্ষ শ্রমিকদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
উৎপাদন বন্ধ হওয়া ২৫টি পাটকলের মধ্যে চারটির (জাতীয়, খালিশপুর, দৌলতপুর ও কেএফডি) শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি গত অগাস্টে পরিশোধ করা হয়েছে বলে তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়।

অবসরপ্রাপ্ত ও অবসায়নকৃত ৩৪ হাজার ৭৫৭ জন স্থায়ী শ্রমিকদের দুই লাখ টাকার ঊর্ধ্বে পাওনার ক্ষেত্রে অর্ধেক নগদে ও অর্ধেক তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পরিশোধের সিদ্ধান্ত আছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১টি পাটকলের সবগুলোতে নগদ অংশ পরিশোধের জন্য অর্থ বিভাগ থেকে এ পর্যন্ত ১৭৬৯ দশমিক ৪১ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। ৩১ হাজার ৭৫৭ জন শ্রমিকের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে ১৬৬২ দশমিক ১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, যা বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৯৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

মামলা, অডিট আপত্তিজনিত সমস্যা, শ্রমিকদের নামের সঙ্গে এনআইডির গরমিল, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাব না থাকার কারণে কিছু শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ বিলম্ব হচ্ছে।

“এ সকল সমস্যা নিরসনকল্পে শ্রমিক ও মিল ও সংস্থা হতে মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে এবং শ্রমিকদের নামের গরমিল সংশোধন করে ও ব্যাংক হিসাব খোলা রাখার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সমস্যা নিরসন করে শীঘ্রই নগদ অংশের শতভাগ পারিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বাকি অর্ধেক সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র ইস্যু সার্ভার নির্ভর হওয়ায় বিষয়টি কিছুটা সময়সাপেক্ষ,” বলা হয় পাট মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে।

সভায় বস্ত্র ও পাট সচিব আবদুল মান্নান, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালামসহ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা যুক্ত ছিলেন।

 

শেয়ার