যশোরে সবজি ও মাছ বাজারে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

 সংক্রমণ ঠেকাতে বাজার স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত করোনা প্রতিরোধ কমিটির

ইমরান হোসেন পিংকু
মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সারাদেশে চলছে এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউন। কিন্তু যশোরের হাট বাজারগুলোয় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় মাস্কের ব্যবহার দেখা গেলেও সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যাচ্ছে না। যশোর জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বারবার সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচার অব্যাহত থাকলেও জনমনে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এদিকে শনিবার যশোর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির মিটিংয়ে সবজি বাজার ও মাছ বাজারের ভয়াবহ চিত্রের কথা উঠেছে। ফলে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সবজিবাজার স্থানান্তর করে খালধার রোডে নেয়া হবে। অপরদিকে মাছ বাজার নেয়া হবে কাঁচা বাজারের স্থানে। এছাড়াও বাজার নজরদারি আরো বাড়ানো হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর শহরের বড়বাজার, রেলস্টেশন, নিউ মার্কেট, ধর্মতলার মাছ বাজার ও সবজি বাজারে মানুষের ভিড়। গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করছেন লোকজন। পরিস্থিতি এমন যে, সেখানে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনার সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে এসকল কাঁচাবাজারে। আবার স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রীও তেমন একটা ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

যশোরের মাছ বাজারে এসে বিপাকে পড়েছেন হাফিজুর রহমান। তিনি মাস্ক, গ্লাবস পরে আসলেও বাজারে আসা বাকিদের দেখে তিনি হতাশ। বলেন, ‘মাছ বাজারে যেভাবে ক্রেতা-বিক্রেতারা বেচাকেনা করছেন তাতে করোনার হাত থেকে সুরক্ষিত থাকা দুষ্কর। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিবে।
ধর্মতলায় কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী সাদ্দাম হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, ‘ধর্মতলা বউ বাজার খুবই ছোট একটি বাজার। এই বাজারে মানুষের ভিড় বেশি। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা অনেকে মাস্ক পর্যন্ত ব্যবহার করছে না। এভাবে চলতে থাকলে করোনাভাইরাস মহামারী রূপ নিবে।

যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, ‘করোনা আগামী দিনে কি পরিস্থিতি হবে তা আমরা কেউ বলতে পারি না। আমাদের যশোরের সবজি বাজার ও মাছ বাজারে যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করা হচ্ছে সেটা শঙ্কার বিষয়। আমরা সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি। মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে আগ্রহী করে তুলতে কাজ করছি।’

শেয়ার