কঠোর লকডাউন তোয়াক্কা না করে দোকান খুলছেন যশোরের কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ‘কঠোর লকডাউন’র তোয়াক্কা করছেন না যশোরের কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ীরা। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকার পরও এসব প্রতিষ্ঠান খুলে চলছে অহরহ কেনাবেচা। সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী এগুলো কোনভাবেই জরুরি সেবার আওতায় পড়ছে না। তারপরও বন্ধ নেই এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জেলা প্রশাসন অনুমতি দিয়েছে এমনটি চাউর করে প্রতিষ্ঠান খুলে রেখেছেন কম্পিউটার ব্যবসায়ীরা।

অথচ যশোরের জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, এই ধরণের কোন অনুমোদনের খবর তারা নিজেরাই জানেন না। কঠোর লকডাউন নিয়ে সরকারি পরিপত্রে উল্লেখিত বিধিনিষেধের পরিপন্থি কোন অনুমতি তাদের তরফ থেকে দেওয়া হয়নি। এব্যাপারে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামানের ভাষ্য, কম্পিউটার কোন জরুরি সেবার আওতায় পড়ে না। আর তাই তৎশ্লিষ্ট কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালুর অনুমোদনের প্রশ্নই ওঠে না। তিনি জানান, জেলা প্রশাসন থেকে সরকারি পরিপত্রে ঘোষিত নির্দেশনার বাইরে কোন কিছু চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ থেকে পরিপত্রে যেসব নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেগুলোর বাস্তবায়ন করছেন তারা।

সরেজমিন শহর ঘুরে দেখা যায়, ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকানগুলো খুলে রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে অনেকে লুকিয়ে ও গোপনে দোকান খুললেও প্রকাশ্যেও খোলা রেখেছে কেউ কেউ। আবার এমনও দেখা গেছে, মার্কেটের ঢোকার মূল ফটকে কলাপসিবল গেট টানা। কিন্তু ভেতরে দোকানের অর্ধেক সাঁটার খোলা। মূল গেটের বাইরে চেয়ার নিয়ে ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বসে আছেন। কোন খরিদ্দার আসলে কলাপসিবল গেট খুলে তাদের ভেতর পাঠিয়ে দিচ্ছেন। ক্রেতারা ভেতরে গিয়ে কেনাকাটা সারছেন। আবার ফরমায়েশ অনুযায়ী ক্রেতাদের পণ্যও এনে দিচ্ছেন দোকানিরা। শহরের মিস্ত্রিখানা রোড (এমকে রোড) এলাকায় শফিউল্লাহ কমপ্লেক্স, ইডেন মার্কেট, পৌরসভা মার্কেটসহ এই সড়কের বেশির ভাগ মার্কেটের দৃশ্যই এরকম।

এদিকে, জেস টাওয়ারে অবস্থিত কম্পিউটারের দোকানগুলোও খোলা রাখা হয়েছে। সেখানে অবিরাম কেনাকাটা চলছে। জরুরি সেবার আওতায় না পড়লেও কম্পিউার বিক্রির শো-রুম ও দোকানগুলোও খোলা রাখা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তারা সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত দোকান চালু রাখছেন।

লালদীঘির পাড় এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মোবাইল ফোনের শো-রুম বন্ধ থাকলেও এর সামনে দোকানিরা বসে আছেন। ফরমায়েশ মাফিক ক্রেতাদের ফোন ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সামগ্রি এনে দিচ্ছেন। এছাড়া দীঘির পাড় এলাকায় স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের একটি শো-রুম ও চিত্রা মোড়ে স্যামসাংয়ের একটি মোবাইল শো-রুম খোলা দেখা যায়। তবে স্যামসাংয়ের এই দুটি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানান, শোরুম চালু রাখার ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের প্রতিষ্ঠান চালু রাখার ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতিরও সত্যতা পাওয়া গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুসরাস আইরিন স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়েছে, জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মোবাইল ফোন, এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটরসহ ইত্যাদি ইলেকট্রনিক্স পণ্য যেমন জরুরি তেমনি এসব পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন কাস্টমার সার্ভিসও অপরিহার্য। আর এসব পণ্যের সরবরাহ, বিক্রয় ও জরুরি কাস্টমার সার্ভিস চালু রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ওই পত্রে।

শেয়ার