যশোরে কঠোর লকডাউন কার্যকরে প্রশাসনের কড়া নজরদারি

 মোড়ে মোড়ে পুলিশ, যত্রতত্র আসা যাওয়া প্রতিরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে লকডাউনের প্রথমদিন পহেলা বৈশাখের ছুটি থাকায় জনসাধারণের বাইরে উপস্থিতি কম থাকলেও দ্বিতীয় দিনে বাড়ে ব্যস্ততা। জরুরি প্রয়োজনীয় ও নিত্যপণ্যের দোকান খোলা থাকায় অন্য দিনের মতো মানুষ বের হন কেনাকাটা সারতে। গণপরিবহন না থাকলেও শহরে চলাচল করেছে রিকশা বা মোটরসাইকেল। ফলে, শহরের সড়কে ছোট গাড়ির চলাচল ছিল অনেক। তবে, লকডাউনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছিল কড়া নজরদারি। কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে নামে যশোর জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। অকারণে নানা অজুহাত দেখিয়ে শহর ও শহরতলীতে যত্রতত্র আসা যাওয়া প্রতিরোধ করে প্রশাসন। ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে ইজিবাইক মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন। অতি বা জরুরি প্রয়োজনে পুলিশের কাছ থেকে মুভমেন্ট পাস সংগ্রহ করে পথ চলতে আহবান জানিয়েছেন যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার।

জানা গেছে, করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ মোকবেলায় সরকার ঘোষিত দ্বিতীয় দফার ভয়ানক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে নতুন করে গত ১৪ এপ্রিল থেকে আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে ৮ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়। যা কার্যকর করতে মাঠে নেমেছে পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন। শহরের অর্ধশতাধিক জায়গায় করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষকে সচেতন করাসহ গত দু’দিন শহরের যানবাহন ঢুকলে আটক করা হয়েছে। সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জেলা পুলিশের ঊর্ধŸতন কর্মকর্তারা নিয়মিত টহলের পাশাপাশি জনসাধারণকে ঘরমুখি করতে কাজ করে। থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিট যশোর শহরের মণিহার, চাঁচড়া, ধর্মতলা, পালবাড়ি, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, রেলগেটসহ ব্যস্ত যশোরের সকল প্রবেশ পথে পুলিশের চেকপোস্ট মোড়গুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে লকডাউন কার্যকর করে। এছাড়া শহরে জেলা প্রশাসনের প্রায় ১৫টি ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেটের টিম কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। তবে, লকডাউনের গেল দুই দিনে কতজনকে জরিমানা দিয়েছে তাৎক্ষণিক সেই তথ্য দিতে পারেননি জেলা প্রশাসক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর শহরে সকাল থেকে চেকপোস্ট বসিয়ে জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। করোনা সংক্রমণ রোধে জনসাধারণকে সচেতন করতে চলছে মাইকিং। মোটরসাইকেল চড়ে শহরমুখি হওয়া কয়েকশ’ আরোহীকে থামিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়েছে পুলিশ। শহরতলী থেকে যাত্রী নিয়ে শহরের দিকে আসা শতাধিক ইজিবাইক ফেরত পাঠানো হয়েছে গত দু’দিনে। আবার অকারণে যত্রযত্র শহরে আসায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক ব্যক্তিকে সতর্ক করে বাড়ির দিকে পাঠনো হয়েছে। আবার জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আসা যাওয়া করা লোকজনের কাছে পুলিশের দেয়া মুভমেন্ট পাস আছে কিনা চেক করা হচ্ছে। এদিকে, শহরের বাজারগুলোতে তেমন স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। বাজারগুলোতে লকডাউনের পূর্বের মতো জনসাধারণের উপস্থিত দেখা গেছে। তবে সেখানেও আইনশঙ্খলার বাহিনীর তৎপর দেখা গেছে।
দড়াটানা এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে তরিকুল ইসলাম নামে এক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি বলেন, গত সপ্তাহের লকডাউনের চেয়ে এবারের লকডাউনে মানুষের চলাচল কম। তবে যতটা কঠোর হবে বলে মনে করেছিলাম ততটা কঠোর হয়নি লকডাউন। তবে মোড়ে মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট দেখা গেছে। জমশেদ নামে এক রিকশাচালক বলেন, লকডাউন তো আমাদের মতো গরীবদের মেরে ফেলার জন্য। লকডাউনের প্রথমদিন তেমন লোক ছিলো না। কিন্তু আজ লোকচলাচলের ভালো ছিলো। তবে, পুলিশের চেকপোস্ট ছিলো চোখে পড়ার মতো। শহরের ঈদগাহ মোড়ে খায়রুল ইসলাম নামে এক ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী বলেন, লকডাউনের প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিন শহরে ছোটখাটো যানবাহন যেমন রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল একটু বেশি ছিল। আবার এক মোটরসাইকেলে দু’জন বা তিনজনকেও চলাচল করতে দেখা গেছে। পুলিশ সদস্যরা অবশ্য এসব যানবাহন দেখলে তার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা গেছে বলেও জানান তিনি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে বেশি বেশি সচেতন হয়ে ঘরে অবস্থান নিতে হবে। নিতান্তই প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে হলে মুভমেন্ট পাস নিতে হবে এবং অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বিনা কারণে যাতে কেউ ঘরের বাইরে যেতে না পারে সে জন্য কড়া সতর্কতা নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। পুলিশের বিভিন্ন টিম চেকপোস্ট কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। দিনের মতো রাতেও পুলিশি চেকপোস্ট কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

শেয়ার