যশোরে আলাউদ্দিন কালু হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ডিম রিপনের রিমান্ড মঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে আলাউদ্দিন কালু হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ডিম রিপনকে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ আহমেদ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামি সাইদুর রহমান ডিম রিপন শহরের বারান্দী মোল্যাপাড়ার বদর উদ্দিনের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, যশোর শহরের আরবপুর এলাকার কলুপাড়া বাবুর বাড়ির ভাড়টিয়া শুকুর আলীর ছেলে আলাউদ্দিন কালু বারান্দীপাড়া এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাইদুর রহমান ডিম রিপন ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের সাথে চলাফেরা করতেন। তাদের সাথে থেকে মাদক ও চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সাথে যুক্ত হয় বলে অভিযোগ। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডিম রিপন তাকে সেল্টার দেওয়ায় ওই এলাকায় অপরাধগুলো অনায়াসে করে বেড়ায়। আর বিভিন্ন অপরাধে তার বিরুদ্ধে রয়েছে বেশ কয়েকটি মামলা। গত বছরের গত জুলাই মাসে একটি মামলায় হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হয় আলাউদ্দিন। এরপর ডিম রিপনের ভগ্নিপতি বারান্দীপাড়ার মাসুদুর রহমান নান্নু ও আলাউদ্দিনকে দিয়ে বিভিন্ন লোকের জিনিসপত্র চুরি, মাদক ও অস্ত্রের কারবার করায়ে থাকে।
জানা গেছে, ডিম রিপন ও তার ভগ্নিপতি নান্নুর ইশরায় গত রমজান মাসে মণিহার এলাকার একটি মসজিদের সামনে থেকে ফল ব্যবসায়ী রবুর একটি পালসার এবং আশরাফ নামের এক ব্যক্তির একটি এফজেড মোটরসাইকেল চুরি করে আলাউদ্দিন কালুসহ সিন্ডিকেটের সদস্যরা। চুরি করা মোটরসাইকেল বিক্রির টাকা আলাউদ্দিনের কাছেই ছিল। মাসুদুর রহমান নান্নু টাকা নেয়ার জন্য আলাউদ্দিনকে ফোন করেন। কিন্তু চোরের উপর বাটপাড়ি করে নান্নুর ভাগ্নে সিরাজুল ইসলাম সিরার ছেলে জিতু টাকাগুলো নিয়ে নেয়।

এনিয়ে জিতুর উপরও ক্ষিপ্ত হয় নান্নু। পরে নান্নু বিষয়টি তার শ্যালক সাইদুর রহমান ডিম রিপনকে জানায়। ডিম রিপন আবার ফোন করে তার আরেক ভগ্নিপতি ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাকে বলে জিতু যদি টাকা ফেরৎ না দেয় তাহলে তাকে পুলিশে দেয়া হবে। ফলে পুুলিশের ভয়ে জিতু টাকাগুলো ডিম রিপনের মাধ্যমে নান্নুকে দিয়ে দেয়। ওই টাকার জন্য নান্নু চাপ দিচ্ছে এমন কথা লোকজনের কাছে বলে বেড়াচ্ছে আলাউদ্দিন কালু। এতে নান্নু এবং ডিম রিপনের মানসম্মানের হানি হচ্ছে বলে মনে করে। ফলে ভগ্নিপতি নান্নুকে টাকার দেয়ার বিষয়টি আলাউদ্দিন লোকজনকে জানানোয় তার উপর ক্ষিপ্ত হয় ডিম রিপন। এক পর্যায় আলাউদ্দিনকে খুন করতে নান্নুর পরামর্শে পরিকল্পনা করে ডিম রিপন। ঘটনার দিন ২০২০ সালের ১৭ জুলাই সকালে শাহারাজ নামে আরেক সন্ত্রাসীর মোবাইলে আলাউদ্দিনকে ডেকে নেয়া হয় বারান্দী মালোপাড়া মদন কুমারের বাড়ির কাছে। সেখানে ডিম রিপনের উপস্থিতিতে আলাউদ্দিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এরপর লোক মাধ্যমে খবর পেয়ে আলাউদ্দিনের পিতা শুকুর আলী হাসপাতালে ছেলের লাশ সনাক্ত করেন। এই ঘটনার পরদিন শুকুর আলী বাদী হয়ে ডিম রিপনসহ ৭জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় নিজেকে রক্ষা করতে পিচ্চি রিপন নামে আরেক যুবককে পুলিশ দিয়ে আটক করান ডিম রিপন।

এরপরে মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশের উপর ন্যাস্ত করেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম শুভ নামে এক আসামিকে আটক করে সিআইডি পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেন। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় ডিম রিপনসহ আরো এজাহারভুক্ত আরো তিনজন।
এদিকে গত ২৪ মার্চ বিকেলে শহরের মণিহার এলাকা থেকে সিআইডি পুলিশ ডিম রিপনকে আটকের পর সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে বিচারক তাকে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শেয়ার