খোশ আমদেদ মাহে রমজান

সমাজের কথা ডেস্ক॥ পবিত্র মাহে রমজানের আগমনে আমরা উৎফুল্লিত ও উদ্বেলিত। রহমত-বরকত ও মাগফিরাতের বার্তাবাহী পবিত্র মাহে রমজানের আজ ৩য় দিবস। আত্মশুদ্ধির মাস, আত্মপোলব্ধির মাস, কৃচ্ছ্র্রতা সাধনের মাস রমজান। আরবি ‘রমজ’ থেকে ‘রমজান’ শব্দের উৎপত্তি। এর অর্থ দহন বা পোড়ানো। এ মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ নিজের সমুদয় দুনিয়াবী কামনা বাসনাকে বিসর্জন দিয়ে ষড়ঋপু দমন করে মহান স্রষ্টা আল্লাহ পাকের একনিষ্ঠ অনুগত হবার শক্তি সঞ্চয় করে। এ মাস মানুষের সমস্ত আমিত্ব, কুপ্রবৃত্তি, খোদাদ্র্রোহিতা ও নফসের দাসত্ব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় বলে এ মাসের নাম হয়েছে ‘রমজান’।
‘সিয়াম’ অর্থ বিরত থাকা বা পরিত্যাগ করা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় সিয়াম মানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (স.) নির্দেশ মোতাবেক সুবহি সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহ যাবতীয় পানাহার ও যৌন ক্রিয়াকর্ম থেকে বিরত থাকা।’ অবশ্য এটা হলো রোজা বা সিয়ামের দৈহিক দিক।

এখন এ গুরুত্বপূর্ণ জীবন গড়ার মাস আমরা পেলাম, অথচ এর হক ও করণীয়গুলোর ব্যাপারে আমরা ঔদাসীন্য প্রদর্শন করলাম তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন প্রকৃত আল্লহর বান্দা খালিস দিলের মুসলমানের উচিত এটাকে সদ্ব্যবহার করা এবং এর যথার্থ কল্যাণ হাসিল করে নিজের জীবন-মন ধন্য করা। আর এ জন্যই আমাদের রমজানের প্রথম থেকেই সজাগ সচেতন হতে হবে। রাসূলে মাকবুল (সা.) শাবানের শেষের দিকে সাধারণ মানুষদের রমজান মাসের করণীয় ও পালনীয় সম্পর্কে সজাগ ও উৎসাহিত করে তুলতেন। রমজানের আসল মাকসুদ যাতে আমাদের ব্যক্তি জীবন ও সমাজ জীবনে প্রতিফলিত হতে পারে সেদিকে আমাদের সকলকে হতে হবে আন্তরিক। এ বিষয়ে জাতি-ধর্ম-প্রশাসন সবার সমান দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

শেয়ার