করোনাকালে আরও একটি নববর্ষ

সমাজের কথা ডেস্ক॥ মহামারীকালে ভয় আর সরকারি বিধিনিষেধের মধ্যে বাঙালির দুয়ারে আবার এলো বাংলা নতুন বছর। আরেকটি বর্ষবরণের প্রস্তুতিতে মন রঙিন হলেও বাস্তবতা একেবারেই অন্যরকম।
মন খারাপ করা এ সময়ে তাই ঘরে থেকেই বৈশাখ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশবাসী। নাচ আর গানে প্রথম সূর্যোদয় কিংবা নববর্ষের প্রথম দিনে মেলা এবং এখানে সেখানে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছেটা এবারও শিকেয় তুলে রাখতে হচ্ছে।

বুধবার, ১৪২৮ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন থেকেই দেশ যাচ্ছে ‘কঠোর’ লকডাউনে। ফলে বাধ্যতামূলক ঘরবন্দি জীবনে এবার ঘরোয়াভাবে উদযাপন করতে হচ্ছে বাঙালির সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ।
দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে যাওয়ায় এবার জনসমাগম এড়িয়ে ভার্চুয়ালি নববর্ষ উদযাপনের নির্দেশনা রয়েছে সরকারের। ফলে গত বছরের মত এবারও নববর্ষে রাজধানীতে কোনো আয়োজন থাকছে না। মঙ্গল শোভাযাত্রাও হচ্ছে না। থাকছে না বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠানও।
পরপর দু’বছর বাসার বাইরের আয়োজন বন্ধ থাকায় অনেকের কাছে বিশেষ করে ছোটদের কাছে বৈশাখী উৎসব যেন ফিকে হয়ে পড়েছে। তবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলে এবার ছায়ানটের বর্ষবরণের আয়োজন প্রচার করা হবে।

নগরবাসী বলছেন, মহামারীর ধাক্কায় বাধ্য হয়ে বৈশাখের আনন্দ কিছুটা হলেও উপভোগে এবার ঘরে ঘরে নানা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে বুধবার থেকে রমজান মাস শুরু হওয়ায় এবার খাবারের আয়োজনটা একটু বাড়তি মাত্রা পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।

রঙের আচড়ে বৈশাখের আয়োজনকে যারা বর্ণময় করে তোলেন, তাদেরই একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান আলি। গতবছরের মত এবারও তাকে হতাশ করেছে পরিবর্তিত বাস্তবতা।
তিনি বলেন, “আমরা দুই সপ্তাহ সময় নিয়ে বিভিন্ন ঐতিহ্যকে উপস্থাপন করতাম। পহেলা বৈশাখের চেয়েও আগের ১৫-২০ দিন আমাদের কাছে ছিল বড় উৎসব।

“সবাই একসাথে কাজ করা, খাওয়া-দাওয়া। এবার তো এসব কিছুই হচ্ছে না। তবে যদি মঙ্গল শোভাযাত্রা করার সুযোগও আমরা পেয়ে যেতাম, তা আমাদের জন্য বিলাসিতা হয়ে যেত। কারণ বহু মানুষ তো কষ্টে আছে।”

শেয়ার