কঠোর লকডাউন’ শুরু

 যশোরে কার্যকর করতে প্রশাসনের তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ‘কঠোর লকডাউন’ কার্যকর করতে যশোরে তৎপরতা জোরদার করেছে পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন। অকারণ বাইরে বেরোনো নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান শুরু হয়েছে। জনসমাগম কমাতে মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকে জোর তৎপরতা শুরু হয়। এসময় জনচলাচলের উপর কড়াকড়ি আরোপ করতে দেখা যায়। দড়াটানা, সিভিল কোর্ট ও চিত্রামোড় ছাড়াও শহরের প্রবেশের পয়েন্টগুলোয় চেকপোস্ট বসিয়ে যান ও জনচলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে টহল দেন জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা।
গতকাল বিকেলে পর চলমান শিথিল লকডাউন কঠোরের জোরালো তৎপরতা শুরু হয়। এদিন শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানায় পুলিশ বাহিনীর কঠোর অবস্থান দেখা যায়। এখানকার রাস্তার উপর কয়েকটি পুলিশ ভ্যান রেখে পথ আটকে দেওয়া হয়। সেই সাথে পুলিশ সদস্যরা জনচলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ শুরু করেন। সাইকেল, মোটর সাইকেল, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জরুরি প্রয়োজন ও বাইরে বেরোনোর সন্তোষজন কারণ দেখাতে না পারলে তাদের শহরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এদিকে, চিত্রামোড় ও সিভিল কোর্ট মোড় এলাকায়ও কঠোর পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়। মূল শহরে প্রবেশের এই পথ দুটি দিয়ে যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসব ছাড়াও শহরের বেশ কিছু রাস্তা ও পয়েন্টে ‘লডডাউন’ লেখা ব্যারিকেড বসাতে দেখা যায়।

এদিকে, রোজা আবার সেই সাথে কঠোর লকডাউনের আগের দিন হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার দিনভর যশোরের বাজারগুলোতে প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা যায়। লকডাউনে বাইরে বেরোনো নিষেধ থাকায় অনেকেই এদিন সকাল সকাল ইফতার সামগ্রী ও সবজি ক্রয় সেরে নেন। বিকেলেও তড়িঘড়ি করে অনেকে বাজার থেকে কোনাকাটা করেন। অন্য দোকানাপাট বন্ধ থাকলেও শহর ও শহরতলীর অনেক জায়গায় কাঁচা তরিতরকারি ও মাছ-মাংশের দোকানপাট খোলা ছিল। ফলে এই সুযোগটি অনেকে কাজে লাগান। সাত থেকে আট দিনের লকডাউনের চিন্তা মাথায় রেখে এই সময়টিতেও অনেকে কেনাকাটা সারেন।

জানা গেছে, আজ থেকে শুরু হচ্ছে আট দিনের ‘কঠোর লকডাউন’। আজ ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কড়াকড়ি এই লকডাউন আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত জারি থাকবে। আর এসময় সব ধরনের অফিস ও পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি বাজার-মার্কেট, হোটেল-রেস্তোরাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এছাড়া এই সময় সব সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত অফিস এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শিল্প কারখানা চালু রাখার অনুমতি রয়েছে।

এদিকে, লকডাউনের মধ্যে শপিংমল বন্ধ থাকবে। কাঁচাবাজারে কেনাবেচা হবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। হোটেল- রেস্তোরা নির্দিষ্ট সময় শুধু খাবার বিক্রি ও সরবরাহ করতে পারবে। এই সময় অতি জরুরি দরকার ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে টিকা কার্ড দেখিয়ে টিকা নিতে যাওয়া যাবে।

শেয়ার