‘ক্রিকেটাররা অনেক চেষ্টা করে, মাঠে পারফরম্যান্স হচ্ছে না’

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চেষ্টায় কোনো কমতি দেখেন না খালেদ মাহমুদ। প্রস্তুতি প্রক্রিয়ায় তার চোখে পড়ে না গলদ। তারপরও মাঠের পারফরম্যান্স কেন হচ্ছে না, এই বিসিবি পরিচালকের কাছেও তা ধাঁধা। তবে তার আশা, শ্রীলঙ্কা সফরে ব্যর্থতার জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে পারবে বাংলাদেশ দল।

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে সোমবার দুপুরে ঢাকা ছেড়েছে বাংলাদেশ দল। ‘টিম লিডার’ হিসেবে এই সফরে দলের সঙ্গী খালেদ মাহমুদ।

‘টিম লিডার’ নামক এই পদ বিশ্ব ক্রিকেটে সম্ভবত বাংলাদেশেই কেবল আছে। একাদশ নির্বাচন ও অন্যান্য কিছু নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের যোগাযোগ মসৃণ করার জন্য গত নিউ জিল্যান্ড সফর থেকে একজন করে বিসিবি পরিচালককে দলের সঙ্গে পাঠানোর নিয়ম করেছে বিসিবি। সেই পরিচালকের পদের নাম ‘টিম লিডার।’ নিউ জিল্যান্ডে এই দায়িত্বে ছিলেন বোর্ডের মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস।

খালেদ মাহমুদ অবশ্য ম্যানেজার হিসেবে অনেক সিরিজেই কাজ করেছেন দলের সঙ্গে। পদ এবার যেমনই হোক, তার দায়িত্ব ও কাজে হেরফের খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। তবে ক্রিকেটারদের কাজ নিশ্চিতভাবেই হবে খুব কঠিন। টানা বাজে পারফরম্যান্সে দলের আত্মবিশ্বাস থাকার কথা তলানিতে।

দেশের বাইরে সবশেষ ৯ টেস্টেই হেরেছে বাংলাদেশ, এর মধ্যে ৭টিতেই হার ইনিংস ব্যবধানে। অন্তত দেশের মাটিতে খানিকটা ভালো খেলার যে স্বস্তি ছিল, সেটিও হারিয়ে গেছে সবশেষ সিরিজে। গত ফেব্রুয়ারিতে খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে চট্টগ্রাম ও মিরপুর টেস্টে হেরেছেন মুমিনুল হক, তামিম ইকবালরা।

ফল কেন বাজে হচ্ছে, এটা বুঝে উঠতে পারছেন না খালেদ মাহমুদ। ঢাকা ছাড়ার আগে তিনি বললেন, ক্রিকেটারদের নিবেদনে কোনো সমস্যা তার চোখে পড়ে না।

“খেলোয়াড়রা অনেক ফিট। অনেক চেষ্টা করে তারা। মাঠে গিয়ে পারফরম্যান্সটা কেন হচ্ছে না, সেটা একটা বড় ব্যাপার। প্রক্রিয়াগুলো কিন্তু খারাপ বলব না আমি।”

“এখন দল হিসেবে খেলতে হবে আমাদের। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স অনেক দেখেছি। এখনই সময়, আমরা বাংলাদেশ দল হিসেবে খেলতে চাই।”

দেশের বাইরে বাংলাদেশের সবশেষ টেস্ট জয় শ্রীলঙ্কাতেই, ২০১৭ সালে। সেবার ম্যানেজার হিসেবে দলের সঙ্গে ছিলেন খালেদ মাহমুদ। এবারও লঙ্কা জয়ের আশাবাদ শোনা গেল সাবেক এই অধিনায়কের কণ্ঠে।

“অবশ্যই আমরা জিততে চাই। ফল কী হবেৃ তবে আমরা সেরা ক্রিকেট খেলতে চাই। যারা ভালো খেলবে, তারা জিতবে। পাঁচ দিনের খেলা, সেশন ধরে ধরে এগোতে হবে। চট্টগ্রাম টেস্টে (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) আমরা চার দিন নিয়ন্ত্রণ করেও হেরে গেছি, এমনটা আর চাই না। লম্বা সময় মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।”

“আমরা জানি আমাদের সামর্থ্য আছে। যদিও আমরা নিউ জিল্যান্ডে ভালো খেলতে পারিনি, কিন্তু শ্রীলঙ্কায় আলাদা কন্ডিশন। আগেও খেলেছি, সেখানকার পরিবেশ জানি। আমরা চেষ্টা করব সেরা ক্রিকেট খেলতে। সেরাটা খেলতে পারলে আমি মনে করি, আমরা পারব (জিততে)।”

পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দুই টেস্টের প্রথমটি শুরু হবে ২১ এপ্রিল, পরেরটি ২৯ এপ্রিল।

শেয়ার