লকডাউনের ৪র্থ দিন ছিল স্বাভাবিক সময়ের মতো রাস্তায় যানজট, খোলা দোকানপাট

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে সরকারের দেয়া লকডাউনের ৪র্থ দিনেও যশোরে রাস্তা-ঘাটে মানুষের উপস্থিতি ছিলো সরব। এমনকি লকডাউনে যেসব দোকানপাট বন্ধ থাকার কথা সেগুলোরও কিছু অংশ খোলা ছিলো। সামাজিক দূরত্বও যথাযথভাবে মানতে দেখা যায়নি। সড়কে যানবাহন স্বাভাবিকের সাথে বিভিন্ন মার্কেটে ছিলো দোকানপাট খোলা। এসব দোকানে লোক সমাগম করে বেচাবিক্রি হয়েছে হরদম। মানুষের আনাগোনাও ছিলো স্বাভাবিক। এদিকে, ব্যবসায়ী নেতাদের দাবির প্রেক্ষিতে সব ধরণের দোকানপাট সারাদেশের ন্যায় যশোরেও আজ শুক্রবার থেকে সকাল ৯ থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন যশোরের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, সরকারের সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তারা দোকানপাট খুলবেন।

সরেজমিনে গতকাল যশোর শহর ঘুরে দেখা গেছে, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনের ৪র্থ দিনে শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখেন ব্যবসায়ীরা। লকডাউনে যেসব দোকানপাট বন্ধ থাকার কথা সেগুলোরও কিছু অংশ খোলা ছিলো। এমনকি কসমেটিক্স ও কাপড়ের দোকানও খুলতে দেখা গেছে। কেউ কেউ দোকানের ভিতরে ক্রেতা ঢুকিয়ে সাঁটার নামিয়ে বেচাকেনা করেছেন। এসব দোকানে বেশিরভাগ ক্রেতা বিক্রেতার মুখেও ছিলো না মাস্ক। তবে, এসব দোকান দুপুর গড়িয়ে বিকাল নাগাদ আর খোলা পাওয়া যায়নি। এদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শহরের বড়বাজারে দৃশ্য ছিলো ঈদ পূর্ববর্তী বাজারের মতো। এছাড়া সকাল থেকে শহরের সড়কগুলোতে ছিলো রিকসা ও ইজিবাইকের চাপ। গাড়িখানা রোড, আরএন রোড এলাকায় যানজটের সৃষ্টি করে। যা লকডাউনের প্রথম তিন দিনের দৃশ্য এমনটি ছিলো না। রাস্তার সড়কের পাশে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকান ছিলো খোলা। ভ্যানে করে বেচাকেনা ছিলো হরদম। মানুষের আনাগোনাও ছিলো স্বাভাবিক।
এদিন দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে শহরের বড়বাজারে মজিদ বস্ত্রালয়ে এক কর্মচারী জানান, মালিক দোকান খোলা রাখতে বলেছেন, তাই খুলেছি। তবে পুরো দোকান খুলিনি। দুটি সাঁটারের মধ্যে এক পাশ খুলেছি। তবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান চালাচ্ছি। তবে, তার কথার সাথে কোন মিল ছিলো না। ঐ সময়ে দোকানের মধ্যে উপস্থিত কর্মচারী-ক্রেতাসহ উপস্থিত ছিলো ৮ জন। কারোই মুখে ছিলো না মাস্ক।

বড়বাজারের স্মার্ট সুজের সত্ত্বাধিকারী রাব্বি হোসেন জানান, দোকান খুলতে চায়নি। কর্মচারীরা বাড়িতে যেয়ে বলছে দোকান না খুললে; না খেয়ে মরবো। তাই দোকান খুলেছি। দোকান না খুললে আমি হয়তো আমার পরিবার নিয়ে কিছুদিন চলতে পারবো। কিন্তু আমার দোকানে ৫ জন কর্মচারী তারা পরিবার নিয়ে বিপদে পড়বে। পুলিশ ঝামেলা করবে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের ঝামেলার জন্যই পুরো দোকান খুলিনি। তবে পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট আসার খবর পেলে দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়।

প্রায় সব কাপড়ের দোকান খুললেও বড় বাজারের জুই বস্ত্রালয়ের সত্ত্বাধিকারী জামিল হোসেন দোকান খোলেনি। তার দোকানের সামনেই কিছু ব্যবসায়ীদের সাথে আড্ডায় মেতেছেন তিনি। এসময় আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ব্যবসা করতে হয় ঠান্ডা মাথায়। দোকান খুলেই পুলিশের ভয়ে দোকানদারী করা সম্ভব না। এতে ব্যবসায় মন বসে না। তাই ব্যবসায়ী নেতারা প্রশাসনের সাথে যেকোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে দোকান খুলবো। তিনি আরো বলেন, গত বছর করোনা সম্পর্কে মানুষের ভয় বেশি ছিল। তাই লকডাউন দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা-ঘাট জনমানবশূন্য হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবার মানুষের করোনা সম্পর্কে ধারণা আছে, তারা আগের মতো ভয় পায় না। সরকার লকডাউন দিলেও মানুষ তাদের প্রয়োজনে ঠিকই বাইরে বের হচ্ছে।

এদিকে, আজ থেকে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত সরকার সব ধরণের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত ও জেলা প্রশাসন যশোরের সকল দিক নির্দেশনা মেনেই তারা ব্যবসা পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন যশোরের ব্যবসায়ী নেতারা।

বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মীর মোশারফ হোসেন বাবু বলেন, সরকারের সকল নির্দেশনা মেনেই বড় বাজারের সকল দোকান খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দোকানেই তাদের নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন করবে। মার্কেটের প্রবেশদ্বারে মার্কেটের ব্যবস্থাপনায় মাস্ক পরিধান নিশ্চিত ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহারের পরেই দোকানে প্রবেশ করতে পারবেন ক্রেতা। আশাকরি বড়বাজারের সব ধরণের মার্কেট খোলবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই।

জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান সমাজের কথাকে বলেন, ৭ দিনের বিধিনিষেধের মধ্যেই এবার খুলে দেওয়া হয়েছে সকল মার্কেট- শপিংমল। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা থাকবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে বেচাকেনা করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে জেলা প্রশাসনের ৯টি টিমের সাথে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশাকরি যশোরের ব্যবসায়ীরা সকল স্বাস্থ্যবিধি মানবেন।

এদিকে, যশোরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিগত কয়েক মাস যশোরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও চলতি সপ্তাহ থেকে জেলায় মৃত্যুর খবর আসতে শুরু করেছে। যা সাধারণ মানুষ ও জেলা করোনা কমিটিকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। গেল ২৪ ঘণ্টায় যশোরে এক চিকিৎসকসহ নতুন করে ৬৬ জনের নমুনায় কোভিড-১৯ সনাক্ত হয়েছে।

শেয়ার