যশোর হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে বেড ও ভেন্টিলেটর
২২ উপকরণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকটের কারণে চালু হচ্ছে না আইসিইউ

এস হাসমী সাজু
২২টি উপকরণ ও মেশিনারিজ সংকটের কারণে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ চালু করা যাচ্ছে না। বারবার এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সুফল মেলেনি। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ফের আলোচনায় এসেছে আইসিইউ চালুর বিষয়টি। আইসিইউ চালু করতে সর্বশেষ ৩ এপ্রিল আবারো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন পাঠিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর বৃহস্পতিবার ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে বেড ও ভেন্টিলেটর।

হাসপাতাল সূত্র মতে, ২০২০ সালে সারা দেশের মতো যশোরে করোনা আক্রান্ত সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ক্রিটিক্যাল রোগীদের নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি আকারে জানায়। জেলার মানুষের কথা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয় গত বছর ৭ মে জাতীয় নাক, কান, গলা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল হতে মেরামতকৃত ছয়টি আইসিইউ প্রেরণ করে। এরপর এই ইউনিট চালুর জন্য ওয়ার্ড, বেড ও জনবলের প্রয়োজন দেখা দেয়। বিভিন্ন সময় চিঠিপত্র আদান প্রদানের ফলে হাসপাতালে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ড খালি করে আইসিইউ ইউনিটের জন্য উপযুক্ত করে তোলা হয়। এরপর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের এ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চিকিৎসক ও ১১ জন ট্রেনিং প্রাপ্ত সেবিকা ওই ইউনিটের জন্য প্রস্তুত করা হয়। পরে এই ইউনিটের জন্য ১০টি বেড বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বর্তমানে ৬টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে তিনটি নষ্ট হয়ে পড়েছে। অবশিষ্ট তিনটি ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ বেড বৃহস্পতিবার স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ২২টি উপকরণ ও মেশিনের জন্য এখনো এই ইউনিট চালু করতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসের ৩ এপ্রিল হাসপাতালের আইসিইউ চালু করার জন্য ২২টি উপকরণ ও মেশিন চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র প্রেরণ করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক।

চাহিদাপত্রে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালের আইসিইউ পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করার জন্য চারটি ভেন্টিলেটর, ১০ সেট ডায়ালসিস মেশিন ও এ্যাক্সসরিজ, ৫টি আইসিইউ বেড, ১টি এবিজি এ্যানালাইজার ও রিয়েজেন্ট, একটি ইলেক্ট্ররোলার এ্যানালাইজার, ৪টি রোগী বহন ট্রলি, ৫টি মেডিসিন ট্রলি, ৫টি বেড সাইড লকার, ৫টি আইসিইউ ট্রলি, ১৫টি মুলিপ্রেমিটার বায়োলজিক্যাল মনিটর, ৫০টি ইনফিউশন পাম্প, ৫টি ড্রেসিং ট্রলি, ৫০টি সিভিপি সেট, ১০০টি আর্টিরাল লাইন, ১০০টি মাল্টি চ্যানেল কানেক্টর, ৩০টি স্যালাইন স্ট্যান্ড, ১০টি সাকশন অ্যাপিটর, ১০টি বাইন সার্কিট, ৫টি ল্যারিঙ্গোস্কোপ সেট, ৫শ’ নন রিব্রিথিং মাক্স, ১০টি টি-পিস এবং ৫ টনের ১২টি এসি প্রয়োজন। এ মেশিনারিজ হাতে পেলে আইসিইউ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরিফ আহমেদ জানান, আইসিইউ কবে চালু হবে সঠিকভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বৃহস্পতিবার বেড ও ভেন্টিলেটর ওয়ার্ডে বসানো হয়েছে। কিন্তু এই বেড ও মেশিন চালু করতে যে সকল মেশিনারিজ প্রয়োজন সেগুলো হাসপাতালে নেই। সহযোগী মেশিনারিজ পাওয়া মাত্র আইসিইউ ইউনিট চালু করা সম্ভব হবে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, বর্তমানে করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কোনা সময় রোগীকে আইসিইউতে নিতে হতে পারে। কিন্তু এ ইউনিট পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তবে হাসপাতালে সিসিইউ এর মত রোগীদের বর্তমানে আইসিইউতে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এজন্য পাঁচজন চিকিৎসক, ১১জন সেবিকাসহ অন্যান্য কর্মচারী প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া ২২টি উপকরণ ও মেশিনারিজ চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।

শেয়ার