মণিরামপুরে দেবী টিকাদারের ঘাতকের স্বীকারোক্তি প্রেমের ফাঁদে ফেলে বারবার টাকা দাবি করায় হত্যা করে প্রেমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রেমের ফাঁদে ফেলে বারবার টাকা দাবি করার কারণে মণিরামপুরে দেবী টিকাদারকে হত্যা করা হয় বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তার প্রেমিক এবং চরমপন্থি সদস্য পাচু বিশ্বাস। গতকাল বৃহস্পতিবার যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি শেষে আসামি পাচুকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন বিচারক মামুনুর রহমান। আটক পাচু বিশ্বাস একই উপজেলার লেবুগাতী গ্রামের রাজবংশীপাড়ার জীবন বিশ্বাসের ছেলে। এর আগে গত বুধবার রাতে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ষোলগাতিয়া গ্রামের আত্মীয় বাড়ি থেকে পাচুকে আটক করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্ত যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম পিপিএম। এরপর তার দেখানো মতে মণিরামপুরের কুচলিয়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে দেবী টিকাদারকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ৩ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে কে বা কারা মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মণিরামপুর উপজেলার কুচলিয়া গ্রামের পীযুষ টিকাদারের স্ত্রী এক সন্তানের জননী দেবী টিকাদারকে। তিনি নিখোঁজ থাকার দুইদিন পর গত ৫ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে একই এলাকার মুকুন্দ সরকারের স্ত্রী রেখা সরকার আম কুড়াতে তাদের পুকুরপাড়ে গেলে দেবী টিকাদারের লাশ দেখতে পান। তার বুকসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিলো। লাশ উদ্ধারের দিনে নিহতের স্বামী পীযুষ টিকাদার অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি ক্লুলেস হওয়ায় পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িত আসামি আটকের জন্য ডিবি পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে ডিবি পুলিশ। এরপর তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে খুলনার ডুমুুুরিয়া উপজেলার ষোলগাতিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিহতের প্রেমিক পাচু বিশ্বাসকে তার ভগ্নিপতির বাড়ি থেকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেবী টিকাদারকে হত্যার কথা স্বীকার করেন পাচু বিশ্বাস। পরে তারই স্বীকারোক্তিতে গত বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত একটি চাকু কুচলিয়া গ্রামের মুকুন্দ সরকারের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানিয়েছেন, পাচু বিশ্বাসের সাথে দেবী টিকাদারের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো। ২০০৬ সালের শেষের দিকে দেবী টিকাদার স্বামী ও একটি পুত্র সন্তান ফেলে পালিয়ে ভারতে চলে যান। প্রায় দুই বছর সেখানে থাকার পর আবার তারা বাড়িতে ফিরে আসেন। দেবী টিকাদার স্বামীর সাথে সংসার করলেও গোপনে তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখেন। কিন্তু পাচু বিশ্বাস চরমপন্থী সদস্য হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা থাকায় তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন দেবী টিকাদার। খুন হওয়ার সপ্তাহ খানেক আগে তাকে একই ভাবে পূর্বের মত ব্লাকমেইলিং করে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন দেবী টিকাদার। এরপর তার কাছে আরো ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু পাচু তাকে ২ হাজার টাকা দিতে চাইলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে তিনি দেবী টিকাদারকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করেন। এজন্য গত ৩ মার্চ রাতে তিনি দেবীকে টাকা দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ফোন করে এলাকার মুকুন্দ সরকারের বাগানে দেখা করতে বলেন। রাতে দেবী টিকাদার সেখানে এলে পাচু চাকু দিয়ে উপুর্যপুরি আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর চাকুটি পাশের পুকুরে ফেলে দিয়ে তিনি খুলনার ডুমুরিয়ার শোলগাতিয়া গ্রামে তার এক ভগ্নিপতির বাড়িতে চলে যান। সেখানে তিনি দু’দিন মাছের ঘেরে মাটি কাটার কাজও করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেছেন, গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে দেবীকে হত্যার কথা স্বীকার করে পাচু বিশ্বাস আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

শেয়ার