নেংগুড়াহাট এলাকায় আড়াই কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ

নেংগুড়াহাট (মণিরামপুর) প্রতিনিধি॥ মণিরামপুর উপজেলা নেংগুড়াহাট এলাকায় শয়লাগ্রামের ভিতর দিয়ে ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে বালুর পরিবর্তে মাটি ফেলার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে কাজ বন্ধ রাখতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল হক । মাটি না সরানো পর্যন্ত কাজ শুরু করতে নিষেধ করা করেছে ঠিকাদার শাহিনুর রহমান শাহিনকে।

দুই কোটি ৪৩ লাখ টাকায় উপজেলার নেংগুড়াহাট চালুয়াহাটি ইউনিয়নের শয়লা বাজার মোড় হতে হরিশপুর বাজারের সংযোগ সড়ক হয়ে রসুলপুর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। পাকাকরণের কাজ শুরু হয় গত সপ্তাহে। রাস্তা খোঁড়ার পর শুরু হয় বালু ফেলার কাজ। অভিযোগ করা হচ্ছে ঠিকাদার শাহিনুর রহমান শাহিন বালু ফেলার শুরুতেই ৪০০-৫০০ মিটার রাস্তায় বালুর পরিবর্তে ট্রলি ভরে মাটি ফেলেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সেই মাটির ছবি তুলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নজরে আসলে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সরেজমিন রাস্তা দেখতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি ঠিকাদারকে মোবাইল ফোনে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন। রাস্তাটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী গাউসুল আজম বলেন, দশ দিন আগে কাজ শুরু হয়েছে। বালুর পরিবর্তে মাটি ফেলা হয়েছে। ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখতে চিঠি করা হয়েছে।

এদিকে ঠিকাদার শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, ৩০০-৩৫০ মিটার রাস্তায় বালু ফেলা হয়েছে। বালুর সাথে দুই একটি মাটির চাক পড়েছে। বালুর পরিবর্তে মাটি ফেলেছি কথাটা ঠিক না। ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে কোন চিঠি পাইনি। মৌখিকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা পেয়েছি। মাটির চাকগুলো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল হক বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি সরেজমিন গিয়েছি। খোঁড়া রাস্তার ৪০০-৫০০ মিটার দূরত্বে মাটি মিশ্রিত বালি ফেলা হয়েছে। সেগুলো না সরানো পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার এখনো অপসারণ কাজ শুরু করেননি বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

শেয়ার