আওয়ামী লীগ সভাপতি বনাম মহিলা মেম্বর ব্রহ্মরাজপুর বাজারে ঘরভাড়া নিয়ে তুলকালাম, পাল্টাপাল্টি মামলা

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা॥ দুই বছরের জন্য ভাড়া নেয়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি ঘর ছাড়ছেন না, নিয়মিত ভাড়াও দিচ্ছেন না। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউপির সংরক্ষিত আসনের সদস্য রাবেয়া সুলতানার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি নৌ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত পেটি অফিসার শেখ বোরহানউদ্দিন। তিনি বলেন এ ঘটনা নিয়ে বাদানুবাদের ফলে ভিন্ন রূপ দিয়ে রাবেয়া সুলতানা তার বিরুদ্ধে একটি হয়রানিমূলক মামলা করেছেন। অপরদিকে বোরহানউদ্দিনের পক্ষে তার ভাতিজার ছেলে সাঈদ সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

শেখ বোরহানউদ্দিন জানান, ২০১৬ সালে ধুলিহরের মহিলা মেম্বর রাবেয়া সুলতানা তার কাছ থেকে দুই বছরের জন্য মাসিক এক হাজার টাকায় ব্রম্মরাজপুর বাজারের সাহেব বাড়ি মোড়ে দুটি গুদাম ঘর ভাড়া নিয়ে রডের ব্যবসা শুরু করেন। ২০১৮ সালে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি ঘর ছাড়ার কথা বললে নানা তালবাহনা করতে থাকেন। বোরহানউদ্দিন বলেন-বাজার কমিটির নেতাদের মাধ্যমে তাকে ঘর ছাড়ার কথা বারবার বলা হলেও তিনি একইভাবে সময় ক্ষেপন করতে থাকেন। ঘর ভাড়ার জামানতের টাকা ফেরত দিতে চাইলেও তিনি তা নিতে অস্বীকার করে অপমানজনক ভাষায় তাকে গালিগালাজ করতে থাকেন। তিনি জানান বাধ্য হয়ে গত ২ এপ্রিল শেখ বোরহানউদ্দিন ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন। তিনি জানান এ ঘটনার দু’দিন পর ৪ এপ্রিল মেম্বর রাবেয়া সুলতানা আমার ঘরের তালা লোকজন নিয়ে এসে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙ্গতে থাকেন। আমি এতে বাঁধা দিই। তখন লোকজন জড়ো হয়ে যায়। মেম্বর রাবেয়া ঘর ছাড়বো না, তুই যা পারিস করে নিস বলেই আমার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। আমি পড়ে গেলে লোকজন এসে তাকে ধাওয়া দিলে রাবেয়া সুলতানাও মাটিতে পড়ে যায়। পরে বাজারের লোকজন আমাকে সাতক্ষীরা হাসপাতালে ভর্তি করে। আমি সেখান থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করি। আমার গোডাউন এখনও তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ঘটনার সময় তা পকেট থেকে ৪১ হাজার টাকা ছিনতাই হয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন শেখ বোরহানউদ্দিন।

শেখ বোরহানউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন এ ঘটনাকে নাটকীয় রূপ দিয়ে রাবেয়া সুলতানা কল্পিত অভিযোগ খাড়া করে থানায় মামলা দিয়েছেন এবং সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যাচার করেছেন। তার শ্লীলতাহানি কিংবা মারপিটের অভিযোগ কল্পিত বিষয়। আমি একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে একজন নারীর মর্যাদা রক্ষায় সচেতন। অথচ আমাকে এমন উদ্ভট কল্পনাপ্রসূত অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমার পৌত্র সাঈদ এর প্রতিকার দাবি করে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দিয়েছেন। এতে আসামি করা হয়েছে রাবেয়া সুলতানা, দাউদ গাজির ছেলে আনিসুর, কেয়ামউদ্দিন গাজির ছেলে বাবলু গাজি ও মাহমুদ আলির ছেলে হাফিজসহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনকে। এদিকে ইউপি সদস্য রাবেয়া সুলতানা দাবি করছেন তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ায় ঘর ছেড়ে দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। কিন্তু জামানতের টাকা ফেরত না পাওয়ায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন তাকে মারধর করা হয়েছে। প্রকাশ্যে তার ষøীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে।

শেয়ার