যশোর পৌরসভা নির্বাচন আজ, ভোট হবে ইভিএমএ

বিএনপি সরে যাওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে
নৌকা ॥ নজর কাউন্সিলর প্রার্থীদের দিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নানান জল্পনা-কল্পনা এবং প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যশোর পৌরসভার নির্বাচন। আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ইভিএম’র মাধ্যমে পৌরবাসী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর নির্বাচিত করবেন। নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৭ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিরর পদে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, পৌরসভা নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সীমানা জটিলতা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলার প্রেক্ষিতে ৯ ফেব্রুয়ারি সেই নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে মামলার নিষ্পত্তি হলে ৩১ মার্চ ভোট গ্রহণের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু তারপরও নির্বাচন হওয়া, না হওয়া নিয়ে নানান গুঞ্জন ছিল। সব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভোটগ্রহণ। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী রয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গনী খান পলাশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। কারণ বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মারুফুল ইসলামের প্রতীক ইভিএম’এ থাকলেও তারা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। অপর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরদার। এছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৭ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে মেয়র পদ নিয়ে তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস না থাকায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রত্যেক ওয়ার্ডেই ক্ষমতাসীনদের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী থাকায় সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উত্তেজনা রয়েছে। সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন চশমা প্রতীকে বর্তমান কাউন্সিলর আইরিন পারভীন, আংটি প্রতীকে আয়েশা ছিদ্দিকা, আনারস প্রতীকে সান-ই শাকিলা আফরোজ, কলম প্রতীক নিয়ে সুফিয়া বেগম, দ্বি-তল বাস প্রতীক নিয়ে অর্চণা অধিকারী, হারমোনিয়াম প্রতীকে রেহেনা পারভীন, অটোরিকসা প্রতীকে রুমা আক্তার, টেলিফোন প্রতীকে রোকেয়া বেগম ও সেলিনা খাতুন জবাফুল নিয়ে নির্বাচন করছেন। ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর নাসিমা আক্তার জলি আনারস ও নাছিমা সুলতানা চশমা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড এ বর্তমান কাউন্সিলর শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি আনারস ও সালমা আক্তার বানী চশমা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ ওয়ার্ডে ১ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আহম্মদ শাকিল গাজর প্রতীকে, জাকির হোসেন রাজিব উটপাখি প্রতীকে এবং পাঞ্জাবি প্রতীকে সাহিদুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার হলেন বর্তমান কাউন্সিলর শেখ রাসেদ আব্বাস রাজ পানির বোতল প্রতীকে, শেখ সালাউদ্দীন আহমেদ ডালিম প্রতীকে, তপন কুমার ঘোষ টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে, জাহিদুল ইসলাম উটপাখি প্রতীকে, ওসমান উজ্জামান চৌধুরী গাজর প্রতীকে ও ব্রিজ প্রতীকে নির্বাচন করছেন অনুব্রত সাহা মিঠুন। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বর্তমান কাউন্সিলর মোকসিমুল বারী অপু গাজর প্রতীকে, উম্মে মাকসুদা মাসু টেবিল ফ্যান প্রতীকে, ওমর ফারুক ডালিম প্রতীকে, সাব্বির মল্লিক উটপাখি প্রতীকে ও কামরুজ্জামান পাঞ্জাবি প্রতীকে ভোট করছেন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান মুস্তা পানির বোতল প্রতীকে, জাহিদ হোসেন টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে ও মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন উটপাখি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বর্তমান কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান চাকলাদার টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে, রাজিবুল আলম ব্লাকবোর্ড প্রতীকে, হাফিজুর রহমান উটপাখি প্রতীকে, মোকছেদুর রহমান ভুট্টো ব্রিজ প্রতীকে, শরীফ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ডালিম প্রতীকে ও মিজানুর রহমান বাবলু পানির বোতল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বর্তমান কাউন্সিলর আলমগীর কবির সুমন পাঞ্জাবি প্রতীকে, এসএম আজাহার হোসেন স্বপন টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে, আশরাফুজ্জামান পানির বোতল প্রতীকে, আনিসুজ্জামান ব্রিজ প্রতীকে ও আশরাফুল হাসান উটপাখি প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে আছেন। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বর্তমান কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা উটপাখি প্রতীকে, জুলফিকার আলী পানির বোতল প্রতীকে, শামসুদ্দিন বাবু পাঞ্জাবি প্রতীকে, আবু শাহজালাল ডালিম প্রতীকে, শাহেদ উর রহমান রনি টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে, শাহেদ হোসেন নয়ন ব্লাকবোর্ড প্রতীকে, কামাল হোসেন ব্রিজ প্রতীকে ভোট করছেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বর্তমান কাউন্সিলর সন্তোষ দত্ত ব্রিজ প্রতীকে, সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মাসুম ডালিম প্রতীকে, প্রদীপ কুমার নাথ বাবলু উটপাখি প্রতীকে ও ওবাইদুল ইসলাম রাকিব টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে নির্বাচন করছেন। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বর্তমান কাউন্সিলর আজিজুল ইসলাম ব্রিজ প্রতীকে, শেখ নাছিম উদ্দিন পলাশ ডালিম প্রতীকে, শেখ ফেরদৌস ওয়াহিদ টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে, অ্যাড. আসাদুজ্জামান বাবুল পানির বোতল প্রতীকে, আবু বক্কার সিদ্দিকী ক্লাকবোর্ড প্রতীকে, শেখ শহিদ পাঞ্জাবি প্রতীকে, স্বপন কুমার ধর উটপাখি প্রতীকে ও খন্দকার মারুফ হুসাইন গাজর প্রতীক নিয়ে ভোট করছেন।

যশোর জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার হুমায়ুন কবির বলেন, যশোর পৌরসভার নির্বাচন উপলক্ষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁচ্ছে গেছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) মেশিনসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম। যশোর পৌরসভার ৫৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এই লক্ষে ৪৭৯টি ইভিএমসহ অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য অতিরিক্ত আরো ৫০ শতাংশ ইভিএম সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া করোনার স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনা করে সকল কেন্দ্রেই মাস্ক, হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। যশোর পৌরসভা নির্বাচনে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য ৫৫টি কেন্দ্রে ৭৯টি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১২শ’ সদস্য নিয়োজিত থাকছে। ২২ জন ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ জন করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া তিন প্লাটুন বিজিবি এবং র‌্যাবের তিনটি টিম টহলে থাকবে।

শেয়ার