নিজ এলাকায় সংবর্ধিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য

 সোনার বাংলা গড়তে ছাত্রলীগকে ভূমিকা রাখতে হবে : প্রতিমন্ত্রী স্বপন
 দেশের উন্নয়নে সহায়তা করতে ছাত্রলীগ বদ্ধপরিকর : লেখক ভট্টাচার্য্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর ॥ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে ছাত্রলীগকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। ভাষা আন্দোলন, স্বাধীকার, স্বাধীনতা সংগ্রামসহ দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রলীগের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনের সোনালী ইতিহাস রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য হিসেবে লেখক ভট্টাচার্য্যকে ছাত্রলীগ পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে মণিরামপুরবাসীকে কৃতজ্ঞ করেছেন। বঙ্গবন্ধু এদেশের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছেন। আজ একশ্রেণির সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দেশকে অশান্ত করতে চেষ্টা করছে। এজন্য উগ্র জনগোষ্ঠীকে প্রতিহত করতে ছাত্রলীগকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

সোমবার বিকেলে উপজেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত শহীদ মসিয়ূর রহমান অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য’র নিজ এলাকা মণিরামপুরে আগমন উপলক্ষে তাকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মুরাদুজ্জামান মুরাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবসময় ঐক্যবদ্ধ। দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করতে ছাত্রলীগ বদ্ধপরিকর। পাকিস্তানের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মাথায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল। সুতরাং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন যেন ভূলুন্ঠিত না হয় সেদিকে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদ নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশের জন্য সর্বোচ্চ দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে ছাত্রলীগের অতীত আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনবাজি রেখে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ার ওয়াদা গ্রহণ করেছি। মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে সেদিন যে অকুতভয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিনা অস্ত্রে দেশের জন্য শুধু বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আজ আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ দেশ গড়ার কারিগর জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নে জীবনবাজি রেখে সার্বিক সহযোগিতা করবো। দেশরতœ শেখ হাসিনার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে মাদ্রাসাপড়–য়া কমবয়সী শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে মরিয়া এক উগ্রবাদী গোষ্ঠী। এ গোষ্ঠীর অপতৎপরতা রুখতে ছাত্রলীগ প্রস্তুত রয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌরমেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-গ্রন্থাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক তন্ময় দেবনাথ, উপ-স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক সাধন বিশ্বাস। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. বশির আহমেদ খান, জেলা পরিষদ সদস্য গৌতম চক্রবর্তী, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী জলি আক্তার, যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মিল্টন।

লেখক ভট্টাচার্য্যরে সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি শুভ্রদেব হালদার বাপ্পী, রানা হামিদ, সাগর হোসেন সোহাগ, খালেদ হাসান নয়ন, ফরিদা পারভীন, জেসমিন শান্ত, আনন্দ সাহা পার্থ, দেবাশিষ শিকদার সিদ্ধার্থ, যুগ্ম সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশি, আব্দুল জব্বার রাজ, শামস-ই-রোমান, সহসম্পাদক শেখ রেজওয়ান আলী, রফিকুল ইসলাম বাধন, নাজমুল সিদ্দিকী নাজ, মানব সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহিন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক তুহিন রেজা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক আল আমিন হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার জামি উস সামি, কর্মসংস্থান সম্পাদক রনি মোহাম্মদ, উপ-অর্থ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম, উপ-ধর্ম সম্পাদক জামাল সাহেদ, উপ-গণশিক্ষা সম্পাদক ওয়াহেদ খান রাজ, উপ-পাঠাগার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, উপসংস্কৃতি সম্পাদক শেখ নাজমুল প্রমুখ।

এর আগে লেখক ভট্টাচার্য্য মণিরামপুর পৌঁছে প্রথমে দলীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিকেল ৫টায় তিনি অডিটরিয়ামের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। এ সময় ছাত্রলীগের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফজলুর রহমান ও জামাল হোসেন। পরে সন্ধ্যায় তিনি গ্রামের বাড়ি উপজেলার পাড়ালা গ্রামে যান। সেখানেই রাত্রিযাপন করেন বলে দলীয় সূত্রে জানাগেছে। মূলতঃ তিনি তার বাবা মাখন ভট্টাচার্য্য’র মৃত্যুবার্ষিকীতে বাড়িতে এসেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

 

 

শেয়ার