কাউন্সিলর পদে ৮ প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও টক্কর দেবেন ৪ জন

৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থীর ছড়াছড়ি

সালমান হাসান রাজিব ও ইমরান হাসান পিংকু
যশোর পৌরসভা নির্বাচনে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থীর ছড়াছড়ি। ওয়ার্ডটির কাউন্সিলর পদের প্রতিদ্বন্দ্বী ৮জন। কিন্তু ভোটের লড়াইতে টক্কর দেবেন মূলত ৪ জন। এছাড়া বাকি অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আরো দুজন আছেন তারাও আলোচনায় ও ভোটারদের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন। তাদেরও সম্ভাবনা রয়েছে ভোটযুদ্ধে ভালো অবস্থানে থাকার। ওয়ার্ডটির ভোটারদের অভিমত অনেকটা এরকমই।

জানা গেছে, ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আজিজুর রহমান এবার দুর্দান্ত ভোট যুদ্ধের মুখোমুখি হতে চলেছেন। কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ৮ জন হলেও মূলত ৪ প্রার্থীর মধ্যে জয়-পরাজয়ের লড়াই হবে। এক্ষেত্রে বর্তমান কাউন্সিলরের সাথে ভোটের যুদ্ধে টক্কর দেবেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবুল, খন্দকার মারুফ হুসাইন ইকবাল ও আবু বক্কর সিদ্দিকী।

এদিকে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে শেখ শহিদ ও স্বপন কুমার দে কমবেশি আলোচনায় আছেন। এছাড়া বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত শেখ ফেরদৌস ওয়াহিদের অবস্থানও মোটামুটি ভালো। কারণ দলটির সাথে যুক্ত অন্য আর কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই। ফলে দলীয় সমর্থণ পেলে তিনিও ভালো অবস্থানে যেতে পারেন। এছাড়া আরেক প্রার্থী নাসিম উদ্দিন পলাশও বেশ প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

আসছে ৩১ মার্চ যশোর পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে স্থানীয়দের ভোট-ভাবনা জানতে সমাজের কথার একটি টিম সরেজমিন ওয়ার্ডটিতে যায়। আলাপচারিতায় ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এখানকার বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট তুলে ধরেন। তাদের পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরাও ওয়ার্ডের উন্নয়ন নিয়ে তাদের ভাবনা-পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

স্থানীয়দের দাবি যশোর শহরের মধ্যে এই ওয়ার্ডটি উন্নয়নে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে। তাদের মতে, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে উল্লেখ করার মতন তেমন কোনো উন্নয়ন কাজ এবার হয়নি। সেইসাথে সমস্যা ও সংকট আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আর এসব সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো ড্রেনেজ সমস্যা। যার কারণে পুরো বর্ষা মৌসুম থাকে জেঁকে বসে জলাবদ্ধতা। এছাড়া ওয়ার্ডের বেশির ভাগ রাস্তার অবস্থা একদমই ভালো না। নেই ডাস্টবিন সুবিধাও। ফলে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে ভাগাড়ে পরিণত করা হয়। এসব সমস্যা ছাড়াও বেশির ভাগ বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সড়কবাতি জ্বলে না।

বকচর জোড়ামন্দির এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুক শেখ জানান, এলাকায় কোনো নাগরিক সুবিধা নেই। রাস্তার অবস্থা ভালো না। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় জলাবদ্ধতা হয়। স্থানীয় আসাদুল ইসলাম ও সাহেব আলী জানান, ডাস্টবিন না থাকায় ময়লা ফেলার কোনো জায়গা নেই।

সরেজমিন ওয়ার্ড ঘুরে জানা যায়, নাজির শংকরপুর, বকচর ও মুড়লিসহ আরো বেশ কয়েকটি বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এই ওয়ার্ডের নাগরিক সুবিধার মান খুবই খারাপ। হাজারি গেট এলাকার বাসিন্দা আয়নাল হোসেন জানান, বর্ষা মৌসুম আসলে মাঠপাড়া ও তাদের এলাকা পানিতে ডুবে যায়।

হুশতলা মোড় এলাকার বাসিন্দা পাভেল শেখ জানান, এলাকায় ডাস্টবিন নেই। তাই স্থানীয়রা বাড়ির আশেপাশে অন্যের ফেলে রাখা জমিতে ময়লার ভাগাড় গড়ে তুলেছেন।

ওয়ার্ড এলাকার উন্নয়ন ভাবনা ও পরিকল্পনা নিয়ে আলাপচারিতায় ডালিম প্রতীকের প্রার্থী শেখ নাছিম উদ্দিন পলাশ জানান, উন্নয়নে ৯ নম্বর ওয়ার্ড অনেকটাই পিছিয়ে আছে। নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি ওয়ার্ড গড়ে তুলবেন।

টেবিল ল্যাম্প প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা যুবদলের সহসভাপতি শেখ ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, এলাকায় বিদ্যমান ড্রেনেজ ও ডাস্টবিন সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন। এছাড়া ওয়ার্ডের সড়কগুলোর উন্নয়ন প্রাধান্য দেবেন।
উটপাখি প্রতীকের প্রার্থী ও কীর্তন-শিল্পী স্বপন কুমার ধর জানান, সেবার প্রাপ্তির জন্য কাউকে তার কাছে আসার দরকার হবে না। নির্বাচিত হলে পাড়া-মহল্লার মোড়ে বোর্ড টাঙিয়ে সেখানে তার মুঠোফোন নম্বর দিয়ে রাখবেন। কারো প্রয়োজন হলে সেই নম্বরে কল দিলে তিনি সেখানে পৌঁছে যাবেন। এছাড়া এলাকায় বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন।

পাঞ্জাবি প্রতীকের প্রার্থী ও শহর যুবলীগের সদস্য শেখ শহিদ জানান, ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতা নিরসনসহ পাড়া-মহল্লার রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবেন। প্রতিটি খাম্বায় যাতে সড়কবাতি জ্বলে সেটি নিশ্চিত করাও হবে তার অন্যতম লক্ষ্য।

ক্রীড়া সংগঠক ও জেলা দলের সাবেক ক্রিকেটার আবু বক্কার সিদ্দিকী জানান, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়মুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। সেজন্য পাড়া-মহল্লায় স্পোর্টিং ক্লাব গড়ে তুলবেন। যাতে তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত করে মাদকাসক্ত, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা যায়। নির্বাচনে বিজয়ী হলে সিনিয়র সিটিজেনদের নিয়ে মহল্লা কমিটি গঠন করবো। সেই কমিটিকে নিয়ে ওয়ার্ডের ড্রেন, রাস্তা ও সড়কবাতির উন্নয়নে কাজ করবেন।

গাজর প্রতীকের প্রার্থী ও সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি খন্দকার মারুফ হুসাইন ইকবাল জানান, স্মার্ট ও মডেল একটি ওয়ার্ড গড়ে তোলার লক্ষ্যে তার বহুমুখী পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের মানুষজনকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন অভিযাত্রা শুরু করবেন। এক্ষেত্রে ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার সিনিয়র সিটিজেনদের নিয়ে উন্নয়ন কমিটি গঠন করবেন। আর সেই কমিটির মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে ও পরামর্শ নিয়ে সেগুলোর সমাধান করবেন। তিনি আরও জানান, পরিকল্পিত ও পর্যাপ্ত ডেনেজ সিস্টেম গড়ে তুলে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করবেন। এছাড়া এলাকার রাস্তাগুলোর উন্নয়ন করে যাতায়াতের দুর্ভোগ দূর করবেন। পর্যাপ্ত সড়কবাতির ব্যবস্থা করবেন। যাতে ওয়ার্ডের কোন সড়ক অন্ধকারে না থাকে।

পানির বোতল প্রতীকের প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবুল জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে তার পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নিয়মিত মশক নিধন, রাস্তা-ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করাসহ পর্যাপ্ত সড়কবাতির ব্যবস্থা ও সন্ত্রাস-মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ে তোলাও তার অন্যতম লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয়দের নিয়ে সর্বদলীয় একটি উন্নয়ন কমিটি করবেন। কমিটির পরামর্শ নিয়ে ওয়ার্ডের সব ধরনের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। এছাড়া বিভিন্ন মোড়ে ওয়াইফাই জোন ও সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসবেন।
বর্তমান ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ব্রিজ প্রতীকের প্রার্থী আজিজুল ইসলাম জানান, পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় আশানুরূপ উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। তারপরও এলাকায় অনেক রাস্তা ও ড্রেনের কাজ হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো করিম পাম্প কবরস্থান রোড, বিহারী কলোনী রোড, হুশতলা কবরস্থান রোড ও নীলগঞ্জ তাঁতীপাড়া রোড। এছাড়া জোড়ামন্দির এলাকায় ছয়টি বাইলেনে ও ২৪টি ল্যাট্রিন নির্মাণ হয়েছে। তিনি আরও জানান, এবারও নির্বাচিত হলে এলাকায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ গড়ে তুলে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন।

শেয়ার