যশোর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়াই হবে ত্রিমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোটের যুদ্ধ হবে ত্রিমুখী। যদিও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চারজন। কিন্তু লড়াই হতে যাচ্ছে তিনজনের মধ্যে। ফলে ভোট নিয়ে এসব প্রার্থীদের মধ্যে টানটান স্নায়ু উত্তেজনা বিরাজ করছে। যশোর শহরের বেজপাড়া ও আরএন রোডের একাংশ নিয়ে গঠিত ওয়ার্ডটির ভোটারদের ধারণা এরকমই।

স্থানীয়রা বলছেন, তিনবার বিজয়ী বর্তমান কাউন্সিলর সন্তোষ দত্ত এবার জবরদস্ত ভোট যুদ্ধের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মাসুম ও আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী প্রদীপ কুমার নাথ বাবলুর সাথে তার জোর লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, ওয়ার্ডটির চার কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে তিনজন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। আরেকজন বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। বর্তমান কাউন্সিলর সন্তোষ দত্ত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। মনিরুজ্জামান মাসুম বিএনপির রাজনীতি করলেও বর্তমানে দলের কোনো পদে নেই। আরেক প্রার্থী প্রদীপ কুমার নাথ বাবলু ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতি করতেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগ করেন। তবে দলীয় কোনো পদে নেই। এছাড়া বয়সে প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ ও নির্বাচনের মাঠে নতুন মুখ ওবাইদুল ইসলাম রাকিবও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি শহর ছাত্রলীগের সদস্য।

সরেজমিন ওয়ার্ড ঘুরে জানা যায়, এখানকার ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ত্রুটি আছে। অপ্রশস্ত ড্রেনগুলো ঠিকমত পরিষ্কার করা হয় না। আর এতে পানি নিষ্কাশন বাধাপ্রাপ্ত হয়। যার ফলে বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতা হয়। এছাড়া পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় রাস্তায় ময়লা গড়াগড়ি খায়। আর সেসব ময়লা দ্রুত অপসারণও হয় না।

ওয়ার্ডটির বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, ডাস্টবিনের ময়লা ছড়িয়ে রাস্তা অপরিচ্ছন্ন থাকে। ড্রেন সময়মত পরিষ্কার করা হয় না। নয়ন খন্দকার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, এলাকার বেশ কতগুলো রাস্তার উন্নয়ন দীর্ঘ দিনেও হয়নি। সরেজমিন ওয়ার্ড ঘুরে বাসিন্দাদের বক্তব্যের সত্যতা মিলেছে।

দেখা গেছে, এলাকার নলডাঙা রোডটির অবস্থা ভালো না। এছাড়া এদিকে শ্রীধর পুকুর পাড় রোড, গোলগুল্লা মোড় থেকে পিয়ারী মোহন সড়ক পর্যন্ত বাইলেনটির অবস্থাও ভালো না। তবে দীর্ঘদিন ধরে খারাপ অবস্থায় থাকা গয়ারাম সড়কটির পুনঃনির্মাণ শুরু হয়েছে। এখন শুধুমাত্র বিটুমিন কার্পেটিং বাকি।

বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, এলাকার প্রধান ড্রেনটি খালধার রোডের ড্রেনের সাথে যুক্ত। কিন্তু সেখানে বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। যার কারণে এলাকার পানি নিষ্কাশন ঠিকভাবে হয় না। তিনি জানান, রানা স্টিল প্লাজার পাশে থাকা বড় ড্রেনটি নিচু। অন্যদিকে, খালধার রোডের যে ড্রেনের সাথে এটি যুক্ত হয়েছে সেটি আবার উঁচু। ফলে এই ওয়ার্ডের পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয়। বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আর দীর্ঘ দিনেও এটির সংস্কার না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন সমস্যা দূর হচ্ছে না।

নলডাঙা রোডের বাসিন্দা উৎপল সাহা বলেন, এই এলাকার সড়কটির অবস্থা দীর্ঘ দিন ধরে বেহাল। এছাড়া এখানে ডাস্টবিনের সংকট আছে। ময়লা ঠিকমত অপসারণ হয় না। ড্রেনের সমস্যার কারণে বৃষ্টির দিনে পানি জমে।

টেবিল ল্যাম্প প্রতীকের প্রার্থী ওবাইদুল ইসলাম রাকিব জানান, নির্বাচিত হলে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় বিদ্যমান ত্রুটি দূর করে এলাকার পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান করবেন। এছাড়া সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত মডেল ওয়ার্ড গঠনে ভূমিকা রাখবেন।

ডালিম প্রতীকের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মাসুম জানান, কাউন্সিলর থাকাকালীন বেজপাড়া মেইন রোড, পিয়ারীমোহন ও বস্তাপট্টি রোডের উন্নয়ন কাজ করেছিলেন। কিন্তু তারপর নতুন করে কোনো রাস্তার পুনঃনির্মাণ কাজ হয়নি। তিনি জানান, এবার নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করবেন। এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলোর উন্নয়ন করবেন। এছাড়া ড্রেনেজ ত্রুটির কারণে বিদ্যমান জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানসহ এলাকায় পর্যাপ্ত সড়ক বাতি, ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করবেন। এমনকি সব ধরনের সেবার মানোন্নয়নে তার দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকবে।

উটপাখি প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী প্রদীপ কুমার নাথ বাবলু জানান, নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো পুনঃনির্মাণে উদ্যোগী হবেন। যাতে চলাফেরার দুর্ভোগ লাঘব হয়। এছাড়া রাস্তায় যাতে ময়লার ছড়াছড়ি না হয় তার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করবেন। তিনি আরও জানান, ড্রেনেজ ত্রুটির কারণে বিদ্যমান জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসার রাস্তাগুলোর উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত সড়কবাতির ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড গড়াও তার অন্যতম লক্ষ্য।

ব্রিজ প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর সন্তোষ দত্ত জানান, গয়ারাম সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। আর নলডাঙা রোডও পুনঃনির্মাণ হবে। সড়কটির উন্নয়ন কাজের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ১৮টি রোড ও সেখানে ড্রেন নির্মাণের প্রক্রিয়াও চলমান। তিনি আরও জানান, খালধার রোডের ড্রেনের সাথে ওয়ার্ডের মেইন ড্রেনের সংযোগস্থলে যে ত্রুটি আছে এবার নির্বাচিত হলে সবার প্রথমে সেটির সংস্কার করবেন। যাতে পানি নিষ্কাশন সমস্যা সমাধান করে ওয়ার্ডকে জলাবদ্ধতা মুক্ত রাখা যায়।

শেয়ার