মুক্তিযুদ্ধের প্রতি স্তরকে স্পর্শ করে মোমবাতি ও মশাল প্রজ্বালন, উড়ানো হলো ফানুস

 চাঁদের হাটের আয়োজনে ইতিহাসের সাক্ষী হলো যশোরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মোমবাতির আলোয় আলোকিত দেশের সর্ববৃহৎ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যশোর শহরের দড়াটানা বকুলতলাস্থ ম্যুরালটি। মোমবাতি প্রজ্বালনের এই সন্ধ্যায় ইতিহাসের অনন্য এক অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছে যশোরবাসী। ১৯৭১ কে মনে রেখে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের পাদদেশে প্রজ্বালন করা হয় ১৯৭১ টি মোমবাতি। একাত্তরের ২৬ মার্চে উদ্ভাসিত হয়ে ২৬ মুক্তিযোদ্ধার হাতে জ¦লে মোমবাতিগুলো। বুধবার সন্ধ্যায় যশোর শহরের দড়াটানা বকুলতলাস্থ বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে যশোরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন চাঁদের হাটের দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনের এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে মোমবাতি প্রজ্বালনের সাথে ম্যুরাল সড়কদ্বীপে ৫০ টি মশাল প্রজ্বালন ও ভৈরব পাড়ে ৭১টি ফানুস উড়ান। এসময় অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দ ও দর্শনার্থীরা সব অন্ধকারকে পরিহার করে আলোর পথে চলার দৃপ্ত শপথ ঘোষণা করেন।
এর আগে, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের পাদদেশে বাংলাদেশের ৫০ বছরের পথচলা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান। চাঁদের হাটের সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুলের সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। এসময় তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলাদেশকে কল্পনা করা যায় না। বঙ্গবন্ধু, বাঙালি ও বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, তার ত্যাগ-তিতিক্ষা ও দেশপ্রেম নিয়ে অনেকেই গবেষণা করছেন। ভবিষ্যতের গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মূল্যায়নে উঠে আসবে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর অভিন্নতা। জাতির পিতাকে হত্যার পর এদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর আজীবনের স্বপ্ন ছিল একটি আত্মনির্ভরশীল সমৃদ্ধ জাতি। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চাঁদের হাটের তারকা সদস্য সাংবাদিক শিশু সাহিত্যিক মিলন রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরজাহান ইসলাম নীরা ও এমইউ সী ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল সাহা সিআইপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারু, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, চাঁদের হাটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব সরদার অপু প্রমুখ। আলোচনা শেষে চাঁদের হাটের শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সংগীতানুষ্ঠান।

এছাড়া গত মঙ্গলবার রাতে চাঁদের হাটের শিল্পীদের অংশগ্রহণে দড়াটানা থেকে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল সংলগ্ন সড়কে আলপনা আঁকা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সহযোগিতা করেছে যশোর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, যশোর পৌরসভা ও এমইউ সী ফুডস লিমিটেড।

শেয়ার