ভোটারদের ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

সালমান হাসান রাজিব ও ইমরান হোসেন পিংকু
যশোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অন্য দলের কোনো কাউন্সিলর প্রার্থী নেই। প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থীর সবাই আওয়ামী লীগের। ফলে দলীয় ঘরানার মধ্যেই হচ্ছে ওয়ার্ডটির কাউন্সিলর পদের ত্রিমুখী লড়াই। আভাস মিলেছে লড়াই হাড্ডাহাড্ডিও হতে পারে। আলাপচারিতায় তাদের এমন ধারণার কথা ব্যক্ত করেছেন ভোটাররা।
স্থানীয়রা বলছেন, টানা চার মেয়াদে কাউন্সিলর হলেও মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তা এবার কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে পারেন। তারা মনে করেন একনাগাড়ে প্রায় ২২ বছর পদটির দায়িত্ব পালন করলেও এলাকার অনেক সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এমনকি তার এই মেয়াদে এলাকার উন্নয়নও কম হয়েছে। ফলে অনেকেই বিকল্প চিন্তা ভাবনা করছেন।

জানা যায়, এবারের নির্বাচনে কাউন্সিলর মুস্তার সাথে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন আরো দু’জন। তাদের একজন জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন উদ্দিন মিঠু। তিনি উটপাখি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আরেকজন কাউন্সিলর প্রার্থী হলেন জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলন। টেবিলল্যাম্প প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সরেজমিন ওয়ার্ড এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, পর্যাপ্ত ড্রেন থাকলেও অনেকগুলোর প্রশস্ততা কম থাকায় ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন হয় না। আবার অনেক ড্রেনের স্লাপ (ঢাল) ঠিক না হওয়ায় পানি গড়ায় না। ফলে বৃষ্টির দিনে পানি বাসাবাড়ির ভেতরে ঢুকে যায়। আবার কতগুলো বড় বড় ড্রেনের ঢাকনা না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেকে। তবে এলাকার রাস্তাঘাট ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কারোর তেমন অভিযোগ নেই। মূলত ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ এখানকার প্রধানতম সমস্যা।

এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওয়ার্ডের শহীদ আবু তালেব সড়কের বাসিন্দা শেখ নজরুল ইসলাম ঝর্না। আলাপকালে ৭১ পরবর্তী যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধে ৮ নম্বর সেক্টরের এই গ্রুপ কমান্ডার জানান, তার বাড়ির পাশের ড্রেনটির প্রশস্ততা কম হওয়ায় ঠিকভাবে পানি নিস্কাশন হয় না। ফলে বৃষ্টির দিনগুলোয় বাসার মধ্যে ড্রেনের পানি ঢুকে যায়।

ঢাকা রোড সংলগ্ন ঘোষপাড়া বিবি রোডের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফারুক বলেন, সড়কটির পাশের ড্রেনটি অনেক অপ্রশস্ত। এছাড়া ড্রেনের স্লাপ (ঢাল) ঠিক না থাকায় পানি সরে না। ফলে বৃষ্টির দিনে ড্রেনের পানি উপচে সড়কে উঠে আসে। এছাড়া, সড়কটির খানিক দূরে স্থানীয় ‘জিলানীর বাগান’। আর এই বাগানের পাশ দিয়ে রয়েছে বিশাল আকৃতির একটি ড্রেন। যেটি ভৈরব নদে গিয়ে মিশেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক হোসেন জানান, এই ড্রেন দিয়ে ওয়ার্ডের সব এলাকার পানি নিষ্কাশন হয়। কিন্তু ড্রেনটি দীর্ঘদিন পরিষ্কার করা হয় না। সেটি এলাকায় জলাদ্ধতার অন্যতম কারণ। এছাড়া ড্রেনের উপর ঢাকনা না থাকায় মানুষজন ও যানবাহনও অনেক সময় এর মধ্যে পড়ে যায়।

আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভাবনা নিয়ে আলাপকালে টেবিল ল্যাম্প প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলন জানান, নির্বাচিত হলে পানি নিষ্কাসনের জন্য এলাকায় সুপরিকল্পিত একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। কারণ ওয়ার্ডটির পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। এখানে অনেক বাসাবাড়ি নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর নির্মাণ পরিকল্পনা মাফিক না হওয়ায় পানি বের হওয়ার জন্য এখন আর জায়গা নেই। আর তাই পানি নিষ্কাসনের সুষ্ঠু একটি সমাধানের ব্যাপারে উদ্যোগী হবেন। এছাড়া এলাকায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও সড়কবাতির ব্যবস্থাসহ বাইলেনগুলোর উন্নয়নেও বিশেষ নজর দেবেন। তিনি আরও জানান, উন্নয়নের অনন্য এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে চান। যাতে পরবর্তীতে অন্যরা যারা নির্বাচিত হবেন তারা যেন উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন।

এদিকে আলাপচারিতায় উটপাখি প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন মিঠু জানান, নির্বাচিত হলে সততা ও নিষ্ঠার সাথে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান। এছাড়া ওয়ার্ডের সড়কগুলো যাতে সবসময় পরিচ্ছন্ন থাকে ও ড্রেন-ডাস্টবিনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় সে ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। তিনি আরও জানান, সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে ওয়ার্ড এলাকায় ও মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করবেন। পাশাপাশি এখানকার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও শিক্ষিত হয়ে ওঠায় ভূমিকা রাখবেন।

এলাকায় বিদ্যমান বিভিন্ন সংকট তার সমাধান নিয়ে আলাপকালে বর্তমান কাউন্সিলর মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তা জানান, গত পরিষদে অনুমোদিত উন্নয়ন বরাদ্দ ছাড়া এবারের পরিষদ ওয়ার্ডের উন্নয়নে নতুন করে কোনো বরাদ্দ দেয়নি। যার কারণে ইচ্ছা থাকলেও এলাকার অনেক সমস্যার সমাধান তিনি করতে পারেননি। তিনি আরও জানান, আমতলা থেকে কাঁঠালতলা পর্যন্ত সড়ক, পালবাড়ি ভাস্কর্য থেকে কবরস্থান মাদ্রাসা রোড, তুলা উন্নয়ন বোর্ড এলাকার রোডসহ গাজীর ঘাট ও রওশন আলীসহ আরো কয়েকটি সড়কের উন্নয়ন করেছেন। এছাড়া উন্নয়ন কাজের আওতায় থাকা অনেকগুলো সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করেছেন। পাশাপাশি ওয়ার্ডের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা, ড্রেন ও ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজ চলছে।

শেয়ার