যশোরে এক বছরে পাচারের অভিযোগে ৬১৩ মামলা, নিষ্পত্তি মাত্র ১৮টি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সীমান্ত জেলা যশোরে পাচার থামছে না। পাশের দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে প্রতিনিয়ত পাচার হচ্ছে নারী-শিশু। শুধু গত বছরই যশোরে পাচারের অভিযোগে মামলা হয়েছে ৬১৩টি। নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৮টি। গতকাল দুপুরে যশোর কালেক্টরেট সভাকক্ষে ব্র্যাক আয়োজিত মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন থেকে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়।

কর্মশালায় জানানো হয়, ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মানবপাচারের যতগুলো মামলা হয়েছে তাতে অন্তত এক হাজার ৭৯১ জন নারী পাচারের শিকার। বাংলাদেশ থেকে যতো পাচারের ঘটনা ঘটে এর মধ্যে ২১ শতাংশই নারী।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান কর্মশালায় বলেন, যশোরে গত বছরই পাচারের অভিযোগে ৬১৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৮টি।

যশোর জেলা মহিলা আইনজীবী সমিতির নাসিমা খাতুন জানান, যেভাবে মামলাগুলো পরিচালনা করা দরকার সেভাবে হয় না। রাষ্ট্রপক্ষের দুর্বলতার কারণে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জড়িতদের সাজা হচ্ছে না।

যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের (জেইউজে) সাধারণ সম্পাদক এইচ আর তুহিন বলেন, পাচার প্রতিরোধ করতে হলে আগে কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। সাধারণত দেখা যায় দারিদ্রতার কারণে কর্মের সন্ধানে অনেকে দালালের খপ্পড়ে পড়ে পাচার হয়। যদি দেশে বা নিজ এলাকায় কর্মের সুযোগ করে তাকে সাবলম্বী করা যায় তবে পাচার রোধ সম্ভব।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। অনলাইনে যুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ ও ব্র্যাকের সিনিয়র ডাইরেক্টর কেএএম মোরশেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান ও সহকারী কমিশনার কৃষ্ণ চন্দ্র। কর্মশালায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক সকিনা খাতুন, এডাব যশোরের সহসভাপতি শাহজাহান নান্নু, সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের যশোরের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন যশোরের কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা প্রমুখ।

শেয়ার