পাওনা টাকা চাওয়ায় যশোরে ব্যবসায়ীকে অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পাওনা টাকা চাওয়ায় আলমগীর হোসেন আলম নামে এক ব্যবসায়ীকে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করেছে সন্ত্রাসীরা। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় ওই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পান আলমগীর। এঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি তাজুল ইসলাম। গতকাল বুধবার দুপুরে যশোর সদরের নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে এই ঘটনার ঘটে। এই ব্যাপারে ভুক্তভোগী আলমগীর এদিনই কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।

সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামের উত্তরপাড়ার নূর আলী মোল্যার ছেলে ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন আলম বলেছেন, তিনি হাশিমপুর বাজারে ধানের ব্যবসা করেন। যশোর শহরের আশ্রম রোডের বাসিন্দা বর্তমানে বারান্দীপাড়া এলাকায় ভাড়াটিয়া রাজন নামে এক যুবকের সাথে আলমের পূর্ব পরিচয় রয়েছে। রাজনের বারান্দীপাড়া মাদ্রাসার পাশে একটি গোডাউন রয়েছে। দুই বছর আগে আলমের কাছ থেকে ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা ধার নেন রাজন। এর মধ্যে ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন রাজন। আর ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা আশা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের একটি চেক দেয়া হয়। কিন্তু রাজনের হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ব্যাংকে জমা দিতে পারছেন না আলম। ফলে নগদ টাকা পাওয়ার জন্য রাজনকে ফোন করেন আলম। গতকাল বুধবার আলমকে টাকা আনতে রাজনের গোডাউনে যেতে বলেন। কিন্তু বাড়ি থেকে আসতে দেরি হওয়ায় এদিন দুপুর দেড়টার দিকে ব্যবসায়ী আলম, আসমত আলী মেম্বর, ইকরাম হোসেন ও কামরুল মাস্টার টাকা নেয়ার জন্য জুয়েলের অপেক্ষায় ছিলেন হাইকোর্ট মোড়ের বটতলায়। দুপুর দুইটার পরে রাজনের নেতৃত্বে ৭/৮ জন সন্ত্রাসী হাইকোর্ট মোড়ের বটতলায় আসে। রাজনের কাছে শর্টগান এবং তার সহযোগী বেড়ে বাবু এবং সজলসহ তার সহযোগিদের প্রত্যেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। প্রথমেই আলমকে দেখে তারা অস্ত্র তাক করতে থাকে। আলমসহ তিনজনে জীবন ভয়ে দৌড়ে নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে পালানোর চেষ্টা করেন আলম ও তার সহযোগীরা। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর সাজেদুল হক রিপন ও কম্পিউটার অপারেটর সেলিম হোসেন তাকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করেন। পরে খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

এই ব্যাপারে তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই আল ইমরান বলেছেন, তিনি এদিন যশোর পলিটেকনিক কলেজে পরীক্ষার ডিউটিতে ছিলেন। দুপুর দুইটার দিকে ভাত খাওয়ার জন্য হাইকোর্ট মোড়ে আসেন। এরই মধ্যে দেখতে পান হঠাৎ করে শর্টগান ও পিস্তলসহ ৭/৮ জন লোক আলমদের ধাওয়া করছে। তবে হঠাৎ করে রাজনদের হাতে অস্ত্র দেখে এএসআই আল ইমরান মনে করেছেন ওরা মনে হয় প্রশাসনের সিভিল বিভাগের লোক হতে পারে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম। তিনি আরো বলেছেন এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের একজনকে থানায় আনা হয়েছে।

শেয়ার