কালীগঞ্জে ২০ দিনে সড়কে ঝরেছে ৬ শিক্ষার্থীসহ ১৬ জনের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় গত ২০ দিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। নিহতদের মধ্যে ৬ জন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। হঠাৎ করে কালীগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।
এদিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। কিন্তু কোন কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনা। অকালেই সড়কে যাচ্ছে প্রাণ। তবে দক্ষ চালক, সড়ক প্রশস্তকরণ, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও ফিটনেসবিহীন গাড়িকেই দায়ী করছেন সচেতনমহল।

জানা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকায় তেল পাম্পের সামনে যাত্রীবাহী বাস উল্টে ঘটনাস্থলে ৯ জন মারা যান। এরপর বিভিন্ন হাসপাতারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও ৩ জন। নিহত ১২ জনের মধ্যে ছিল ৬ জন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তারা সেদিন যশোরে পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন।

এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোরে কালীগঞ্জ শহরের হক চিড়া মিল এলাকায় হেলপার দিয়ে ট্রাক চালানোর সময় চায়ের দোকান গুড়িয়ে দেয় দ্রুতগামী ট্রাকটি। এ সময় সকালে হাটতে বের হওয়া চায়ের দোকানে বসা ৪ পথচারী গুরুত্বর আহত হন। এরপর গত ২১ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালক আহত হন। ট্রাকের চাকা বাস্ট হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফেব্রুয়ারি মাসের ২৬ তারিখে কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের পাতবিলা এলাকার একটি তেল পাম্পের সামনে বাস ওভারটেক করতে গিয়ে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিন যুবক নিহত হন। এতে আহত হন আরও দুইজন।
সর্বশেষ ১ মার্চ উপজেলার নরেন্দ্রপুর এলাকায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যান লাটা হাম্বার (আঞ্চলিক যান) চালানো শিখতে গিয়ে জিলহাস হোসেন নামে এক যুবক নিহত হন।
উপজেলার কোথাও সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটলে সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ও আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও ডিফেন্স সার্ভিসের কর্মীরা। স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে তারা এ কাজ করেন। শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, অদক্ষ চালক, নিয়ন্ত্রণহীন গতি ও ফিটনেস বিহীন যানবাহনের কারণে এই দুর্ঘটনা গুলো ঘটে। সেই সাথে সড়ক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
কালীগঞ্জ বারোবাজার হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত স্পীড গান নিয়ে দ্রুতগতির গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

শেয়ার