অভয়নগরের সাবেক ইউএনও’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির এন্তার অভিযোগ

জালিয়াতির অভিযোগে ইউএনও’র পিতার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বন্ধ

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের অভয়নগর উপজেলার সদ্য বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হুসেইন খাঁনের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি করার অভিযোগে তাঁর বাবা মো. ফবরুখানের ভাতা প্রদান স্থগিত করেজে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুসেইন খাঁন ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের পানাইল গ্রামের মো. ফবরুখানের ছেলে। তিনি ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের কিছু দিন পর শুরু হয় দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ও তৎকালিন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএম রফিকুল ইসলাম অপ্রয়োজনে অভয়নগরব্যাপী শুরু করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম। নির্বিচারে আদায় করেন জরিমানা। শুরু করেন ব্যবসায়ীদের নিকট হতে জোরপূবর্ক অর্থ আদায়ের ভিন্ন কৌশল। এক পর্যায়ে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিষয়ে সতর্ক করা হলে আদালতের কার্যক্রম শিথিল করা হয়।
স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি সূত্র জানায়, করোনাকালিন অভয়নগরে প্রাপ্ত সরকারি বরাদ্দ ও বিতরণের তালিকা চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তা এড়িয়ে যান ইউএনও। সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে গোপনে নগদ অর্থ ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু করেন। নগদ অর্থ ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের খবর পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক ক্ষিপ্ত হন। তখন সাংবাদিক নেতাদের দিয়ে সংবাদ প্রকাশে বাঁধাদান করেন ইউএনও। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ‘জমি আছে ঘর নাই’ ও জমি নাই-ঘর নাই’ নামে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ইউএনও এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয় সরকার। ওই প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও উপকারভোগীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় ইউএনও এবং তৎকালিন পিআইও শরিফ মো. রুবেলের বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের উপকারভোগী এক নারী জানান, তাঁর স্বামী ২০ বছর হয় অন্যত্র চলে গেছে। বাবার দেওয়া দুই শতক জমিতে প্রধানমন্ত্রী ঘর করে দেবে এমন কথা বলে ইট পৌঁছানো ও মাটি ভরাট বাবাদ তিন হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রকল্পের সাথে জড়িত স্যারেরা। বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক উপকারভোগীর একই ধরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। এতেই শেষ নয়, নিজের অপকর্ম ঢাকতে নাজমুল হুসেইন খাঁন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অভয়নগর থেকে বিদায়ের নেয়ার এক দিন পূর্বে যশোর থেকে প্রকাশিত একটি তথাকথিত সাপ্তাহিক পত্রিকায় (ডিএফপি তালিকাভুক্ত নয়) হাট-বাজারের সরকারি বিজ্ঞাপন দেয়। এ ঘটনার পর যশোর থেকে প্রকাশিত ডিএফপি তালিকাভুক্ত দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা ইউএনও’র এহেন কর্মকা-ের বিচার দাবি করেন। এর পরের দিন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় বদলি করা হয় তাঁকে।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি রবিবার ফরিদপুর জেলা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বাঙ্গালী সময়’ নামে একটি পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, ইউএনও নাজমুল হুসেইন খানের বাবা মো. ফবরুখান দীর্ঘ বছর ধরে তাঁর বড়ভাই মো. ফারুক খানের মুক্তিযোদ্ধার সনদে নিজের নাম বসিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। ওই পত্রিকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফারুক খান তাঁর স্বাক্ষাৎকারে বলেন, আমার অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন দপ্তর ম্যানেজ করে বেসামরিক গেজেট বাদে সকল কাগজপত্রে জালিয়াতি করে আমার নামের স্থলে ফবরুখান নাম বসিয়ে বনে যায় মুক্তিযোদ্ধা। বিষয়টি জানার পর বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলে প্রশাসনের নজরে আসে। ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে বন্ধ করা হয় তাঁর ভাতা প্রদান। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ২০১৯ সালের ২২ জুলাই পুনরায় চালু করে ভাতা। তদন্তপূর্বক ২০২১ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর ভাতা প্রদান স্থগিত করে জামুকা।

শেয়ার