লোহাগড়ায় নির্মিত হতে যাচ্ছে সরকারি বহুতল মার্কেট

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি ॥ অবশেষে এ্যাসিল্যান্ড ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ বণিক সমিতির নেতাদের আন্তরিক ভুমিকার কারণে আলোরমুখ দেখতে শুরু করেছে নড়াইলের লোহাগড়ার দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রস্তাবিত সরকারি বহুতল মার্কেট। কৃষি জমি হিসাবে খাস জমি বরাদ্দ নিয়ে সেখানে মিল-কারখানা-বাড়ি নির্মাণ করে ভোগ-দখল করায় এলজিইডির অধীন প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলা বিশিষ্ট সরকারি মার্কেট ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। যেকারণে মার্কেট নির্মাণ প্রকল্পটি সরকারি অফিসে ফাইল চালাচালির মধ্যেই শেষ হওয়ার উপক্রম হচ্ছিল।

অবশেষে সোমবার (১ মার্চ) বিকালে লোহাগড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি)রাখী ব্যানার্জী, এলজিইডির কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা সরকারি আইন অমান্য করে মিল-কারখানা-বাড়ি নির্মাণ করা পরিবারের সাথে কথা বলেন। এক পর্যায়ে সমস্যার সমাধান হয়।

দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নূর আলীসহ দিঘলিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এখানে মার্কেট নির্মাণ করা জরুরী। কিন্তু ৫শতক কৃষি জমি ইজারা নিয়ে প্রায় ১০ শতক জমি ভোগদখল করায় মার্কেট নির্মাণ প্রকল্পটি অনিশ্চয়তায় পড়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চারতলা বিশিষ্ট সরকারি মার্কেট নির্মাণের জন্যে ২০১৮ সালে শুরুতে দিঘলিয়া ইউনিয়র পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ লতিফুর রহমান পলাশ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে আবেদন করেন। এরপর চেয়ারম্যান পলাশ দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন। পরবর্তীতে মার্কেট নির্মাণ প্রকল্পের হাল ধরেন প্রয়াত চেয়ারম্যানের স্ত্রী বর্তমান চেয়ারম্যান নীনা ইয়াসমিন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর নড়াইলের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২ কোটি ৭২ লাখ টাকার চারতলা বিশিষ্ট মার্কেট ভবণ নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন করে।

এলজিইডি লোহাগড়ার উপসহকারী প্রকেীশলী তপন হুসাইন বলেন, মার্কেটের কাজ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা সোমবার বুঝে পেয়েছি।

মোঃ সহিদুর রহমানের স্ত্রী আয়শা খানম বলেন, এ্যাসিল্যান্ড ম্যাডাম নতুন করে খাস জমি দেখিয়ে দিয়েছেন। সেখানে ঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেবো।

দিঘলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নীনা ইয়াসমিন বলেন, বণিক সমিতির মাধ্যমে দখলদার (ইজারাদার) মোঃ সহিদুর রহমান ও তার স্ত্রী আয়শা খানমকে প্রস্তাবিত মার্কেট সংলগ্ন খাস জমিতে বাড়ি করার জন্য ১ লাখ টাকা দেয়া হবে।
লোহাগড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি-এসিল্যান্ড) রাখী ব্যানার্জী বলেন, মোঃ সহিদুর রহমান ও তার স্ত্রী আয়শা খানম ১২০ নং দিঘলিয়া মৌজার এসএ ১৭২৯ নং দাগের ২ শতক এবং ১৭৩০ নং দাগের ৩ শতকসহ মোট ৫ শতক জমি কৃষি জমি হিসাবে ইজারা নিয়ে ছিলেন। তারা আইন অমান্য করে সেখানে মিল-কারখানা-বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ১৭৩০ নং দাগে মোট জমি ১১ শতক এবং ১৭২৯ নং দাগে জমি ৭ শতক। মোট জমি ১৮ শতক। চেয়ারম্যান, বণিক সমিতি ও স্থানীয়দের অনুরোধে ১৭৩০ নং দাগের ফাঁকা থাকা ৩ শতক জমিতে মোঃ সহিদুর রহমান ও তার স্ত্রী আয়শা খানমকে বসবাসের জন্য বাড়ি নির্মাণ করতে বলেছি। প্রস্তাবিত মার্কেটের স্থান থেকে নির্মাণ করা বাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। সরকার যেহেতু ভূমিহীনদের পক্ষে তাই সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা হলো না। সরকারি জমির সীমানায় লাল পতাকা (নিশান) টানানো হয়েছে।

শেয়ার