আয়াকে বাদ দিলো যশোর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি

ডেলিভারির সময় মস্তক ছিড়ে থেকে যায় গর্ভে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রসূতির ডেলিভারির সময় গর্ভে ছিন্ন মস্তক থেকে যাওয়ার ঘটনায় জড়িত স্বেচ্ছাসেবী আয়াকে বাদ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। একই সাথে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহম্মেদ।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহম্মেদ জানিয়েছেন, সোমবার তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় ঘটনা তদন্তে চার সদস্যে কমিটি গঠন করেছেন। মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রবিউল ইসলামকে প্রধান করে কমিটিতে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আব্দুর রহিম মোড়ল, ডা. আরিফ আহম্মেদ এবং উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক ফেরদৌসী খানমকে সদস্য রাখা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে তত্ত্বাবধায়ক বরাবর প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত স্বেচ্ছাসেবী আয়াকে হাসপাতাল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে ওয়ার্ডে চিকিৎসক ও নার্স ছিল না। এ সময় আয়া মোমেনা প্রসূতি আন্না খাতুনের ডেলিভারির চেষ্টা করেন। এতে সন্তানের দেহ বেরিয়ে আসলেও ছিন্নমস্তক রয়ে যায় প্রসূতির গর্ভে। পরে রোববার গাইনি ডা. নার্গিস আক্তার অ্যাবরশোনের মাধ্যমে প্রসূতির গর্ভ থেকে মাথা বের করে আনেন। ঘটনার শিকার প্রসূতি আন্না খাতুন (২৬) যশোরের শার্শা উপজেলার গাজীপুর গ্রামের ইয়াকুব হোসেনের স্ত্রী।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে বিশ্বাস হয় না। ছুটি থেকে আসার পরে ঘটনা জানতে পেরে আয়াকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে যে দোষী হবেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার