সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি ধর্মতলা-খোলাডাঙ্গা এলাকাবাসী

 জমি ক্রয়-বিক্রয়, বাড়ি নির্মাণে দিতে হয় মিষ্টি খাওয়ার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে যশোর শহরতলীর ধর্মতলা ও খোলাডাঙ্গা এলাকাবাসী। জমি ক্রয়-বিক্রয়, বাড়ি নির্মাণে মিস্টি খাওয়ার নামে টাকা চেয়ে চাঁদাবাজি করছে। এমনকি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও নানা কৌশলে চাঁদা নিচ্ছে। বাবু পালোয়ান ও কালো জনির নেতৃত্বে অর্ধডজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে এমনভাবে চাঁদা আদায় করছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা ওই চাঁদাবাজদের কবল থেকে রেহাই পেতে নবাগত পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় সূত্র মতে, যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গা এলাকার মমিন পালোয়ানের ছেলে বাবু পালোয়ান। জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের পোষ্য ক্যাডার হিসেবে এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত। হত্যা, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ডজনখানেক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আর খোলাডাঙ্গা কালীতলা আদিবাসী মন্দিরের পিছনে লুৎফর রহমানের ছেলে কালো জনি। শহরের খড়কি এলাকার বিএনপির ক্যাডার অনু ও শিমুলের একান্ত সহযোগী তিনি। তার বিরুদ্ধেও হত্যাসহ রয়েছে অর্ধডজন মামলা। খোলাডাঙ্গা গাজীপাড়া স-মিলের পিছনে ডাক্তার শরিফুল ইসলামের ছেলে সুমন। সম্প্রতি এলাকায় ত্রাস সুমন নামে পরিচিতি। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারের অভিযোগ। খোলাডাঙ্গা গাজীপাড়ার আব্দুল হাইয়ের ছেলে রাকিব হাসান। কর্মের পেশা না থাকলেও অপকর্মে তার পরিচয় রয়েছে এলাকায়। খোলাডাঙ্গা হ্যাচারিপাড়ার শাহলমের ছেলে নাজু। হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ে বেশ পারদর্শী। এই চক্রটি এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নানান কৌশলে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন তারা। কিছুদিন আগে খোলাডাঙ্গা গ্রামের গাজীপাড়ায় পুলিশের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার আত্মীয়ের বাড়ি নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে চাঁদা হিসেবে ৭ হাজার টাকা নেয়। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ের এক পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যস্থ্যতায় সেই টাকা আবার ফেরত দেন। এ চক্র খোলাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা পুলেরহাট প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকার বাড়ি নির্মাণে বাধা দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণে ওই বাড়ি নির্মাণ চলমান রয়েছে।

খোলাডাঙ্গা গাজীপাড়া জন নামে এক ব্যক্তির জমি বিক্রিতে আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ওই চক্রটি। দেড় লাখ টাকা চাঁদা হিসেবে তাদের দেয়া হয়েছে। কিন্তু দাবিকৃত আরো এক লাখ টাকার জন্য তাদের অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। ভুক্তভোগী জনের গ্রামের বাড়ি মণিরামপুরের বেগারিতলা গ্রামে।

সূত্র মতে, ধর্মতলা ও খোলাডাঙ্গা এলাকায় বাড়ি-ঘর নির্মাণ, জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে হলে এই চক্রটিকে চাহিদামত চাঁদা দিতে হয়। আর না দিলে হত্যা, বোমাবাজি ও চাকু মারাসহ নানা ধরণের হুমকি দেয়া হয়ে থাকে। এই সন্ত্রাসী চক্র সহযোগী হিসেবে ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সের ছেলে ও মেয়েদের ব্যবহার করা হয়। প্রতিনিয়ত আরবপুর-ধর্মতলা রেল লাইনের পাশে একটি শিমুল গাছের নিচে তাদের ডেরা বসে। সেখানে চলে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার কারবার। তবে টাকা লেনদেন হয় ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে। ধর্মতলা এলাকায় ইজিবাইক শ্রমিক সমবায় সমিতির নামে একটি সংগঠন রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠনটি চলতে থাকলেও গত ২ ফেব্রুয়ারি ওই সন্ত্রাসী চক্রটি সংগঠনের সদস্যদের মারপিট করে টাকা পয়সাসহ সমিতির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। ওই চক্রটি ১৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ২টার দিকে ধর্মতলা ইজিবাইক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাদশার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় বাদশা চিৎকারের শব্দ শুনে এগিয়ে এলে প্রতিবেশী রড মিস্ত্রি শুকুর আলীকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে বাদশা ও শুকুর আলীর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ব্যাপারে ভুক্তভোগী কেউই ওই সন্ত্রাসীদের ভয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তারা আশায় বুক বেঁধেছেন সদ্য যোগ দেয়া পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদারের কথায়। নতুন পুলিশ সুপার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময়ে বলিষ্টভাবে বলেছেন, আজ থেকে এ জেলায় কোন চাঁদাবাজ থাকবে না। চাঁদাবাজদের রেহায় পাবে না।

শেয়ার