যশোর স্টেশনে নির্মাণ হচ্ছে ‘লোডিং-আনলোডিং’ প্লাটফর্ম

 প্লাটফর্ম ও লাইনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতে দেড় শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ

সালমান হাসান রাজিব
মালামাল খালাসের সক্ষমতা বাড়াতে যশোর স্টেশনে ‘লোডিং-আনলোডিং’ প্লাটফর্ম নির্মাণ করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি চলছে স্টেশনটির চার নম্বর লাইনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির প্রক্রিয়াও। উদ্দেশ্য মালবাহী বগি রাখার ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্থান সংকটের সমাধান করা। আর এই প্লাটফর্ম ও লাইনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির কাজের জন্য হয়েছে দিনব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান। মঙ্গলবার এই অভিযানে দেড় শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ।

এদিনের অভিযানে নেতৃত্বদানকারী রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চলের (পাকশী) ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান জানান, রেলের প্রকৌশল দপ্তর যশোর স্টেশনে একটি ইয়ার্ড নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি এখানকার চার নম্বর লাইনটির সম্প্রসারণ হবে। আর এই নির্মাণ কাজের আওতার মধ্যে থাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ১৫০টির মতন স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

যশোর রেলওয়ে সূত্র বলছে, যশোর স্টেশন ইয়ার্ড সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এখানে শেডসহ একটি হাই প্লাটফর্ম (উঁ”ু প্লাটফর্ম) নির্মাণ হবে। যাতে বর্ষাকালেও নিরবচ্ছিন্নভাবে মালামাল ‘ওঠা-নামানো’ করানো যায়। সেই সাথে ‘ম্যানুয়াল’ (হস্তসাধিত) পদ্ধতির ‘লোডিং-আনলোডিং’ যাতে সহজসাধ্য হয়। সূত্র মতে, যশোর জংশনে কোন মালবাহী ট্রেন আসলে সেটি চার নম্বর লাইনে রাখা হয়। কিন্তু লাইনটির বিস্তৃতী কম হওয়ায় সেখানে ২০টির বেশি বগি রাখা যায় না। এক্ষেত্রে মালামাল খালাসের জন্য বসুন্দিয়া ও নওয়াপাড়া স্টেশনের সাহায্য নিতে হয়। কারণ বেশির ভাগ রেক’-এ (ইঞ্জিনসহ যাত্রবাহী কোচ বা মালবাহী ওয়াগনের সমষ্টি) ৪০ থেকে ৪২টি মালবাহী বগি থাকে। ফলে সবগুলো বগির জন্য যশোর জংশনের চার নম্বর লাইনে স্থান সংকুলান হয় না। এছাড়া এখানে রাখা বগির মধ্যে ৫ থেকে ৬টির বেশি বগির মালামাল একসঙ্গে খালাস করা যায় না।
এদিকে, রেলওয়ের যশোরস্থ প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্টেশনের চার নম্বর লাইন সংলগ্ন জায়গায় নির্মাণ হবে ‘লোডিং-আনলোডিং’ প্লাটফর্মটি। আর সেই সাথে চার নম্বর লাইনের বিস্তৃতিও বাড়বে। চার নম্বর লাইনটির দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৩৩৮ ফিটে উন্নীত করা হবে। সূত্র মতে, শেডসহ ‘ লোডিং-আনলোর্ডিং’ প্লাটফর্মের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি ইতিমধ্যে নির্মাণ কাজও শুরু হয়েছে। এছাড়া চার নম্বর লাইনের সম্প্রসারণ কাজের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেটিও অচিরেই শুরু হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে যশোর কার্যালয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী ওয়ালি-উল-হক জানান, যশোর স্টেশনের চার নম্বর লাইনে ২০টি পর্যন্ত বগি রাখা যায়। কিন্তু একটি রেক-এ ৪০ থেকে ৪২টি পর্যন্ত বগি থাকে। যার ফলে দেখা যায়, তিন ও চার নম্বর লাইন দুটি বেশির ভাগ সময় মালবাহী বগিগুলোর দখলে থাকে। আর এ কারণে প্রায়ই যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোর ক্রসিংয়ে সমস্যা হয়। এতে এসব ট্রেনের চলাচলে সময়ক্ষেপণ বেশি হয়। তিনি আরও জানান, এসব সমস্যা সমধানে চার নম্বর লাইনটির সম্প্রসারণ করা হবে। যাতে একটি রেক-এর ৪০টি বগি যাতে একই লাইনে রাখা যায়।

যশোর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে ভারত থেকে প্রচুর সংখ্যক মালবাহী ওয়াগন এই স্টেশনটিতে আসছে। কিন্তু মালামাল ওঠা-নামানোর সক্ষমতা কম থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। ফলে ইয়ার্ডটির নির্মাণ শেষ হলে এখানকার লোডিং-আনলোডিং সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পাবে। এতে আমদানিকারকদের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। এতে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি লাভবান হবেন।

মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, জোর গতিতে উচ্ছেদ অভিযান চলছে। সকালে শুরু হওয়া অভিযান এদিন বিকেল অবধি চলে। এসময় এস্কেভেটর চালিয়ে পাকা, আধা পাকা ও টিন দিয়ে নির্মিত স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়। রেলওয়ের থেকে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে স্থাপনা না সরানোয় উচ্ছেদ চালানো হয়। অভিযানে এদিন প্রায় ২ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। যশোর স্টেশনের প্লাটফর্ম এলাকা ও এর আশপাশ থেকে শুরু করে কলাবাগান এলাকা পর্যন্ত উচ্ছেদ চলে। যশোর বেনাপোল রেল লাইনের দুই পাশ ছাড়াও যশোর-ইশ^রদী রেল লাইনের এক পাশে এসময় অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বলেন, উচ্ছেদের জন্য চিহ্নিত ১৫০ স্থাপনা ছাড়াও রেললাইনের পাশে থাকা যেসসব স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে সেগুলোও এই অভিযানে উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুল হকসহ পুলিশের টিম সহযোগিতা করে। পাশাপাশি বিদ্যুত বিভাগের কর্মীরাও সহায়তার জন্য উপস্থিত ছিলেন। এস্কেভেটরের পাশাপাশি রেলের শ্রমিকরা হাতুড়ি, শাবলসহ হস্তচালিত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযানে অংশ নেয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের যশোরস্থ ১৭ নং কাচারির ভারপ্রাপ্ত আমিন আব্দুল মতিন জানান, নিজে থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হয়। কিন্তু যারা সরিয়ে নেননি অভিযান চালিয়ে তাদের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫০টির বেশি স্থাপনা এদিন উচ্ছেদ হয়েছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার