আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে থারাঙ্গার বিদায়

সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রায় দুই বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে। ফেরার অপেক্ষায় আর থাকলেন না উপুল থারাঙ্গা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন শ্রীলঙ্কার এই ব্যাটসম্যান।

৩৬ বছর বয়সী থারাঙ্গা মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বিদায়ের কথা জানান। সবশেষ তিনি শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলেছেন ২০১৯ সালের মার্চে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে। এর আগের বছরের মার্চে খেলেছেন সবশেষ টি-টোয়েন্টি, সবশেষ টেস্ট ২০১৭ সালের অগাস্টে।

২০০৫ সালের অগাস্টে ডাম্বুলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে শুরু থারাঙ্গার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা। ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকবার শ্রীলঙ্কার সীমিত ওভারের দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। প্রথমবার দায়িত্ব পান ২০১৬ সালের নভেম্বরে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে। পরের বছর অস্ট্রেলিয়া সফরে টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব দেওয়া হয় তাকে। তবে তার নেতৃত্বের অধ্যায় ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। ২০১৭ সালে তার অধিনায়কত্বে তিনটি সিরিজে ৫-০ তে হোয়াইটওয়াশ হয় দল।

বাঁহাতি ব্যাটসম্যান থারাঙ্গার টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার খুব একটা সমৃদ্ধ না হলেও ওয়ানডেতে দেশটির সেরাদের একজন তিনি। এই সংস্করণে তার ১৫ সেঞ্চুরি শ্রীলঙ্কার হয়ে পঞ্চম সর্বোচ্চ। ২০১১ বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে তুলতে তার ছিল বড় অবদান। সেই আসরে ৫৬.৪২ গড়ে করেছিলেন ৩৯৫ রান। সেঞ্চুরি ছিল দুটি।

ওয়ানডেতে সনাৎ জয়াসুরিয়ার সঙ্গে তার উদ্বোধনী জুটির বিশ্ব রেকর্ড টিকে ছিল এক যুগ। ২০০৬ সালে লিডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১ বলে ২৮৬ রানের জুটি গড়েছিলেন দুইজন।

সব মিলিয়ে থারাঙ্গা খেলেছেন ৩১ টেস্ট, ২৩৫ ওয়ানডে ও ২৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। সাদা পোশাকে ৩১.৮৯ গড়ে করেছেন ১ হাজার ৭৫৪ রান। তিনটি সেঞ্চুরির সঙ্গে ফিফটি আটটি। ওয়ানডেতে ৬ হাজার ৯৫১ রান করেছেন তিনি ৩৩.৭৪ গড়ে। ১৫টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ফিফটি আছে ৩৭টি। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ভালো করলেও আন্তর্জাতিকে সেটা টেনে নিতে পারেননি। তাই এখানে গড় মাত্র ১৬.২৮।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলার এটিই সঠিক সময় বলে মনে করছেন থারাঙ্গা। পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন সবাইকে।

“কথায় আছে, সব ভালোরই শেষ আছে। আমি বিশ্বাস করি, ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে খেলাটিকে আমার সবটুকু দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে বিদায় জানানোর এটিই সঠিক সময়।”

“আমি পেছনে রেখে যাচ্ছি অনেক মধুর স্মৃতি ও দারুণ সব বন্ধুকে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে, তারা আমার ওপর আস্থা রেখেছে। ক্রিকেট অনুরাগী, আমার বন্ধু ও পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ, তারা আমার ভালো সময়ে, এমনকি সবচেয়ে খারাপ সময়েও পাশে দাঁড়িয়েছে। আপনাদের শুভকামনা ও অনুপ্রেরণামূলক বার্তা আমাকে লক্ষ্যের দিকে ছুটে যাওয়ার সাহস দিয়েছে। এ কারণে আমি আপনাদের ধন্যবাদ দিতে চাই এবং সবাইকে শুভকামনা জানাতে চাই।”

সাম্পতিক সময়ের আরও বেশ কজন ক্রিকেটারের মতো থারাঙ্গাও যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হয়ে সে দেশের ক্রিকেটে যুক্ত হবেন বলে গুঞ্জন আছে লঙ্কান ক্রিকেটে।

শেয়ার