যশোরে মতবিনিময় শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ॥ ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। তবে তিনি বলেছেন, যশোর পৌরসভার নির্বাচন করতে বাধা নেই। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ সম্ভব নয়। মামলার কারণে নির্বাচনী কার্যক্রম কয়েকদিন ব্যবহত হয়েছে। তফশীল অনুযায়ী যে কাজগুলো করা যায়নি, সেগুলো সম্পন্ন করে ভোট গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার সুবিধার্থে ১৫-২০ দিন সময় দিতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মামলার নথি পর্যালোচনা করে ভোটগ্রহণের চেষ্টা করবে নির্বাচন কমিশন।’

সোমবার সন্ধ্যায় যশোর সার্কিট হাউসে যশোর ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এবং মহেশপুর পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও রিটার্নিং অফিসারদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের বিফ্রিংয়ে তিনি এই কথা জানান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা বলেন, যশোর, কালীগঞ্জ ও মহেশপুর পৌরসভায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও রিটার্নিং অফিসারদের সাথে মতবিনিময় করলাম। তারা জানিয়েছেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের পরিবেশ রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছেন। এই তিনটি পৌরসভায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ হবে। ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে কাল।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাশেম মো. ফজলুল কাদের এনডিসি, যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল মামুন, খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার ইউনুচ আলী, যশোরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ও যশোর পৌরসভার রিটার্নিং অফিসার হুমায়ুন কবীর, ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসার মো. রোকনুজ্জামান, মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মহেশপুর পৌরসভা রিটার্নিং অফিসার শাশ^তী শীল।

উল্লেখ্য, আগামি ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ৯ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতের এক আদেশে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে মামলা জটিলতা কাটলেও নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যহত হয়। ফলে পূর্বনির্ধারিত তারিখে ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করবে।

এদিকে, সীমানা ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জটিলতায় উচ্চ আদালতে আটকে যাওয়া যশোর পৌরসভা নির্বাচনের বাধা কেটেছে। নির্বাচন স্থগিত করে হাই কোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল, তার ওপরে স্থগিতাদেশ সোমবার বহাল রেখেছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস কে মোরশেদ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু ও পংকজ কুমার কু-ু।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোরশেদ পরে বলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে চেম্বার আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠয়েছিল।

গতবছর যশোর পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ করা হয়। সম্প্রসারিত সীমানায় নতুন করে নয়টি মৌজা যশোর পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ।

কিন্তু গেজেট হওয়ার পরও মৌজাগুলোকে কোনো ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি। অথচ তাদের কাছ থেকে কর নিচ্ছে পৌরসভা।

এ অবস্থায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ‘বেআইনি’ দাবি করে তা স্থগিত চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন মো. আবদুল্লাহসহ সম্প্রসারিত এলাকার তিন বাসিন্দা।

সেই রিটের প্রাথমিক শুনানির পর গত ৯ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করে দেয় হাই কোর্ট।

পরে হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চেম্বার আদালত হাই কোর্টের আদেশটি স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি সোমবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠায়। তারই ধারাবাহিকতায় আবেদনটির শুনানির পর সর্বোচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ বহাল রাখে আদেশ দিল।

শেয়ার