মণিরামপুরে মাদ্রাসায় ইট- বাঁশ কাগজের শহীদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর ॥ প্রবাদ বলে প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোন দুঃসাধ্য কাজ সাধ্য করা সম্ভব হয়। তার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার অজ-পাড়াগার শ্যামকুড় যমযমিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। অর্থাভাবে প্রতিষ্ঠানে আজও নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। তাই বলে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবদনে থেমে থাকেনি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা রাতজেগে ইটের ওপর বাঁশ ও কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র তৌহিদুর রহমান, ইয়াহুয়া রহমান, গোলাম রসুল এবং নবম শ্রেণির সুমন হোসেন এই কাজটি করেছে বলে মাদ্রাসা সুপার মাও. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই মাদ্রাসাটি সরকারের উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আজও এই প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারি অনুদান আসেনি।

বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের অনুদানে টিনের ছাউনির ১২টি কক্ষে এবতেদায়ী (প্রাথমিক) থেকে দাখিল (মাধ্যমিক) শাখা পর্যন্ত মাদ্রাসাটির একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও অর্থাভাবে মাদ্রাসায় একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। দাখিল (দশম) শ্রেণির ছাত্র তৌহিদুর রহমান জানান, ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ইচ্ছা শক্তি দিয়েই ইট-বাঁশ ও কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। মাদ্রাসা প্রধান মাওলানা নজরুল ইসলাম, সহকারি শিক্ষক আনিচুর রহমান, লিটন কুমার পালিত ও জোহরা খাতুনের সার্বিক সহযোগীতায় দশম শ্রেণির ছাত্র তৌহিদুর রহমান ও তার সহপাঠি কয়েকজন ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে মাদ্রাসার মাঠে ইট এবং বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে। ইটের বেদির ওপর বাঁশের মিনারে খবরের কাগজ দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। দূর থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই এটা কাগজের তৈরি। রাতভর পরিশ্রম করে অস্থায়ী শহীদ মিনারটি নির্মাণের পর সকালে সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পালন করেছে বিভিন্ন কর্মসূচি।

শেয়ার