খুলনার রাকিব হত্যা: চূড়ান্ত রায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন বহাল

সমাজের কথা ডেস্ক॥ সাড়ে পাঁচ বছর আগে খুলনায় নির্মম কায়দায় শিশু রাকিব হাওলাদারকে হত্যার ঘটনায় দুই আসামি ওমর শরিফ ও মিন্টু খানকে হাই কোর্টের দেওয়া যাবজ্জীবন সাজার রায় সর্বোচ্চ আদালতেও বহাল রাখা হয়েছে।

দণ্ডিতদের আপিল খারিজ করে সোমবার এ রায় দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মুশফিকুদ্দিন বখতিয়ার।

পরে সর্বোচ্চ আদালতের এ আদেশ নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এ এম আমিন উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের জঘণ্যতম নৃশংস, ঘৃণিত হত্যাকা- যারা ঘটাচ্ছে, তাদের জন্যে এটি (আপিল বিভাগের আদেশ) একটি বার্তা হবে যে, এ ধরনের শিশু হত্যার শাস্তি অনিবার্য। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ অত্যান্ত কষ্ট করে মামলা পরিচালনা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ শাস্তি বহাল রেখেছেন।’

২০১৫ সালের ৩ অগাস্ট খুলনা নগরীর টুটপাড়া কবরখানা মোড়ে এক মোটর ওয়ার্কশপে মোটরসাইকেলে হাওয়া দেওয়ার কমপ্রেসার মেশিনের মাধ্যমে মলদ্বারে হাওয়া ঢুকিয়ে ১২ বছর বয়সী রাকিবকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর ক্ষোভের সৃষ্টি হয় সারা দেশে।
পরদিন রাকিবের বাবা মো. নুরুল আলম বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই ওয়ার্কশপের মালিক ওমর শরিফ ও তার সহযোগী মিন্টু খান এবং শরিফের মা বিউটি বেগমকে সেখানে আসামি করা হয়।

মামলা হওয়ার ৯৬ দিন পর ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর শরীফ ও মিন্টুর ফাঁসির রায় দেন খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিলরুবা সুলতানা। অপর আসামি শরীফের মা বিউটি বেগম খালাস পান।

ওই বছর ১০ নভেম্বর রাকিব হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে আসে। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের দেওয়া ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাই কোর্টে আপিল করেন। পরে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলার পেপারবুক তৈরি করা হয়।

আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ওই বছরের ৪ এপ্রিল রায় দেয় হাই কোর্ট। তাতে দুই আসামি ওমর শরিফ ও মিন্টু খানের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদ- করা হয়। পাশাপাশি দুজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। রায়ে বলা হয়, জরিমানার অর্থ রাকিবের পরিবারকে দিতে হবে। তা না হলে দুই আসামিকে আরও দুই বছর করে কারাদ- ভোগ করতে হবে।

শেয়ার