৫২শ’ মোমবাতি প্রজ্বালন করে ভাষা শহিদদের স্মরণ করলো চাঁদের হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ব্যতিক্রমী আয়োজনে ৫২শ’ মোমবাতি প্রজ্বালন করে ভাষা শহিদদের স্মরণ করলো চাঁদের হাট যশোর। শনিবার সন্ধ্যায় যশোরের কেন্দ্রীয় শহিদমিনারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগে শহিদমিনার চত্বরে ও রাজপথে আল্পনা এঁকে গোটা অঙ্গনকে বর্ণিল করে তোলে সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি বলেন, পৃথিবীতে একটি মাত্র জাতিই জীবন দিতে পেরেছে নিজের ভাষার জন্য। অসংখ্য শহিদের আত্মত্যাগের ফলে মায়ের ভাষা রক্ষা করা গেছে। বায়ান্ন’র আগে থেকে ভাষা আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। বায়ান্নতে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপ নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ছয় দফা, গণঅভ্যুত্থান ও চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করার কারণেই একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য আরো বলেন, ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বাঙালি আত্মপরিচয়ের মাইলফলক-বাঙালি জাতির চেতনার উন্মেষে অনির্বাণ দ্বীপশিখা-তাই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আমাদের নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে জানাতে হবে এবং তাদেরকে উৎসাহিত করতে হবে আরও জানার জন্য। আমাদের মনে রাখতে হবে যে রাজনীতি বিবর্জিত কোনো সমাজ চলে না। আর এই রাজনৈতিক শব্দের পরিপূরক হচ্ছে একটি সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে কোনোকিছু সঠিকভাবে চলতে পারে না।

চাঁদের হাটের সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহম্মেদ জিয়াউর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরজাহান ইসলাম নীরা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম দুলু, চাঁদের হাটের নির্বাহী সদস্য মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা অশোক রায়, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, বাঁচতে শেখার নির্বাহী পরিচালক এ্যাঞ্জেলা গোমেজ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন অর রশিদ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহসভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মীর মোশারফ হোসেন বাবু প্রমুখ।

এদিকে, ফাল্গুনের পড়ন্ত বিকেলে যশোর শহরের কেন্দ্রীয় শহিদমিনার সাংস্কৃতিককর্মী ও সংস্কৃতিপ্রিয়দের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে। এরই মধ্যে মিনার প্রাঙ্গণে চলতে থাকে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। একে একে সংগীত, নৃত্য পরিবেশন করে ভৈরব সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, সুরবিতান সংগীত একাডেমি, উদীচী যশোর, সুরধুনী, পুনশ্চ ও চাঁদের হাট যশোরের শিল্পীরা। সন্ধ্যার পর শহিদমিনারের বেদিতে জ্বালানো হয় ৫২শ’ মোমবাতি। মোমবাতির এই আলোর বিন্দু উৎসর্গ করা হয় অমর একুশের ভাষা শহিদদের। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক কর্মীদের পাশাপাশি যশোরের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নানা শ্রেণিপেশার মানুষজন এই মোমবাতি প্রজ্বালনে অংশ নেন। ৫২শ’ মোমবাতির আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠে শহিদমিনার প্রাঙ্গণ।

শেয়ার