সাতক্ষীরায় ৬ মাস ধরে পানিতে বাস করছেন ৩ লাখ মানুষ ॥ এলাকা ছাড়ছেন অনেকে

 দ্রুত সহায়তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পানি কমিটির স্মারকলিপি

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা॥ শীত মৌসুম শেষ হওয়ার পরও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রাম এখনও জলাবদ্ধ হয়ে আছে উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারের সহায়তা দাবি করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের তিন লাখেরও বেশি মানুষ প্রতিবছর জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে তাদের সর্বস্ব হারাচ্ছেন উল্লেখ করে সরকারি সহায়তা দাবি করা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।

বুধবার সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কেন্দ্রিয় পানি কমিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন লাবসা, বল্লী, ফিংড়ি, ধুলিহর, ব্রম্মরাজপুর, পৌরসভা ও ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের তিন লাখেরও বেশি মানুষ প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম থেকে টানা ছয় মাস জলাবদ্ধ হয়ে থাকেন। গত ২৫ বছর ধরে এই অবস্থা চলতে থাকায় তারা এখন সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের জমিজমা সহায় সম্পদ বিক্রি করার সুযোগ নেই। ভিটেমাটি ফেলে তারা অন্যত্রে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব এলাকায় ধান ও মাছ চাষ ব্যাহত হচ্ছে। নোংরা পচা পানি ও টিউবঅয়েলের পানি একাকার হয়ে গেছে। দেয়াল চাপা পড়ে ও পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। পানিবাহিত নানা রোগ দেখা দিয়েছে। এর সাথে আম্পানসহ অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলাফেরা কলার ভেলা, তালের ডিঙ্গি ও বাঁশের সাঁকোর ওপর তারা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমও এখানে ব্যাহত হচ্ছে। কাজের অভাবে তাদের খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। ইচ্ছা মতো যেখানে সেখানে বেড়ি বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষ করায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। নিকটস্থ নদী বেতনা ও মরিচ্চাপ খননের অভাবে পলি পড়ে বদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি সরতে পারছে না। ফলে তা স্থায়ী জলাবদ্ধতার রুপ নিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে তারা সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চারদফা দাবিতে স্মারকলিপি দেন। দাবির মধ্যে রয়েছে দুস্থ দরিদ্র নারী প্রধান পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান, বাড়িঘর পুননির্মাণ ও পুনর্বাসন, বোরো মৌসুমে প্রান্তিক চাষীদের পূনর্বাসন এবং এলাকায় কর্মসৃজন প্রকল্প গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পানি কমিটি সভাপতি ময়নুল ইসলাম মো. নুরুল হুদা, আবদুর রউফ ও মতিয়ার রহমান প্রমুখ।

শেয়ার