মোংলায় ধর্ষন মামলায় আটক ৪ আসামীকে আদালতে প্রেরণ

মোংলা প্রতিনিধি ॥ মোংলার পৌর শহরের সিগনাল টাওয়ার এলাকার স্কুল ছাত্রী (১৪)কে দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস আটকে রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা এবং ধর্ষণের ঘটনায় মহিলাসহ পুলিশের হাতে আটক ৪ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাদের বাগেরহাট আদালতে পাঠায় পুলিশ। একই সাথে ধর্ষনের শিকার স্কুল ছাত্রীকে ডাক্তারী পরিক্ষার জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে মামলা দায়ের শেষে অভিযান চালিয়ে ৪জনকে আটক করা হয়। মামলার আসামীরা সকলেই ওই স্কুল ছাত্রীর নিকট আতœীয়। এরা হচ্ছে, আঃ রশিদের মেয়ে শারমিন বেগম (২৫), দেনছের আলীর মেয়ে শিউলী বেগম (৩৮) ও শিল্পী বেগম (৩৬) এবং একই এলাকার শহিদ পাটয়ারীর ছেলে ধর্ষক দেলোয়ার হোসেন (৩০), এদের সকলের বাড়ী কাইনমারী ও সিগনাল টাওয়ার এলাকায়।

পুলিশ আরো জানায়, আসামীরা করোনাকালীন সময় স্কুল বন্ধ থাকার সুবাদে বেড়ানোর কথা বলে ঐ ছাত্রীকে শরণখোলা থানার ধানসাগর এলাকায় এক আত্মীয় বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস যাবত ওই কিশোরীকে আটকে রেখে মাদক সেবন করিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া ওই কিশোরীকে আতœীয় দেলোয়ার পাটোয়ারীও জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে মামলায় স্কুল ছাত্রী উল্লেখ করেছে। এ বিষয়ে মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, গত ১১ জানুয়ারী কিশোরীর মা-বাবা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে এবং ১২ জানুয়ারী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই কিশোরী নিজে বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে ধর্ষন ও মাদক সেবন করিয়ে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করানো অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করে।

তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার রাতে ওসি তদন্ত ও সেকেন্ড অফিসারসহ একদল পুলিশ নিয়ে তিনি শারমিন বেগম, শিউলি বেগম, শিল্পী বেগম ও দেলোয়ার পাটোয়ারীকে আটক করেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে বলেও জানায় তিনি।
এছাড়া এ মামলার বাকি আসামী মোঃ আলী হোসেন (৩৮) ও তায়েবা বেগম (৩০) কে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী।

শেয়ার