সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দু’জন আহত

শরনখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥ সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপ জেলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় গ্রুপের দুই জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের একইদিন দুপুরে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলার ৪নং সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা আঃ খালেক হাওলাদারের ছেলে মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ আলম হাওলাদার (৪৫) বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোরা বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ মাহবুব হোসেন সেলু তার নিয়ন্ত্রণাধীন জেলেদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন সুন্দরবনের নিষিদ্ধ বিভিন্ন নদী ও খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে আসছিল। আমি তার ওই সকল অপকর্মের প্রতিবাদ করায় আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ১২ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সকালে আমাকে কথা আছে বলে শরণখোলা বাজারে ডেকে নেয় এবং সেখানে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষ জেলে হাবিব হাওলাদার সেলুর নেতৃত্বে মুন্না মীরসহ ৩/৪ জন একাট্টা হয়ে আমাকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আমার সাথে থাকা নগদ প্রায় বিশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় প্রতিপক্ষরা। পরে আমার ডাক চিৎকার শুনে বাজার ব্যবসায়ীদের কয়েকজন এগিয়ে আসলে ঘটনাস্থল থেকে তারা সটকে পড়ে।

অন্যদিকে, জেলে হাবিব হাওলাদার বলেন, বন বিভাগের সাথে চুক্তি করে ১৫ বছর ধরে আমি সুন্দরবনের ওই শাপলার খাল এলাকায় মাছ ধরি এবং প্রতি গোনে (১৫ দিনে) শাপলা টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তাকে দুই হাজার টাকা করে দেই। সম্প্রতি ওই এলাকায় মাছ ধরার জন্য ব্যবসায়ী আলম তার নিকটাত্মীয় শহিদুল মাতুব্বরকে পাঠান। এ সময় আমি শহিদুলের হাতে পায়ে ধরে অনুনয় বিনয় করি কিন্তু তার পরেও শহিদুল জোর পূর্বক সেখানে জাল ফেলে। এ বিষয়টি নিয়ে (মঙ্গলবার) সকালে সেলুর উপস্থিতিতে আমার ও আলমের মধ্যে হাতাহতির ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে মোঃ মাহবুব হোসেন সেলু বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে, এখানে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

এছাড়া পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ জয়নাল আবেদীনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।

শেয়ার