বাংলাদেশকে ফেভারিট মেনে শুরু উইন্ডিজের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ঢাকায় পা রাখার পর ক্যারিবিয়ানদের কোয়ারেন্টিনে আপাতত চলছে হোটেলবন্দি পর্ব। অখ- এই অবসরে কোচ ফিল সিমন্স ছক কাটছেন বাংলাদেশে সিরিজ জয়ের। যদিও সেরা অস্ত্রের অনেকগুলোই তার হাতে নেই। জয় তবু জরুরি। এই সিরিজ দিয়েই যে ২০২৩ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই শুরু হচ্ছে তাদের!

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাবে স্বাগতিক ভারত ও আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগের অন্য শীর্ষ ৭ দল। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে লিগে পথচলা শুরু করবে এই সিরিজ দিয়েই।

৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ও ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে গত রোববার ঢাকায় এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। সফরে আসার পর প্রথম ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন সিমন্স। ক্যারিবিয়ান কোচ বললেন, এই সিরিজ দিয়েই ২০২৩ বিশ্বকাপে চোখ রাখা শুরু তাদের।

“বিশ্বকাপ প্রস্তুতির এটাই শুরু। এই টুর্নামেন্ট দিয়েই বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে হবে, কাজেই এটাই শুরু।”

বাংলাদেশে সবশেষ সফরে (২০১৮ সালে) সম্ভাব্য সেরা দল নিয়ে এসেও ওয়ানডে সিরিজ হেরে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখানে এবার দলে নেই একাগাদা শীর্ষ ক্রিকেটার। সিরিজ শুরুর আগের হিসাব-নিকাশে কোন দল এগিয়ে, সেটা নিয়ে কোনো সংশয় নেই সিমন্সের।

“বাংলাদেশ পরিস্কার ফেভারিট। কারণ তারা দেশের মাটিতে খেলছে এবং দেশে তারা ভালো খেলে। এটা নিয়ে ভিন্নমতের কারণ নেই।”
তবে প্রতিপক্ষকে ফেভারিট মানা মানেই লড়াইয়ে হাল ছাড়া নয়। কন্ডিশন ও অভিজ্ঞতায় ক্যারিবিয়ানরা পিছিয়ে থাকলেও সিমন্স ভরসা রাখছেন তার দলের তারুণ্য ও তাড়নায়।
“যে কোনো সিরিজই আমরা খেলতে নামি জয়ের জন্য। হ্যাঁ, বলতে পারেন, আমাদের পুরো দল এখানে নেই। কিন্তু যারা আছে, তার ভালো করতে চায়, খুবই ক্ষুধার্ত ও এই কন্ডিশনে খেলতে ও লড়াই করতে মুখিয়ে আছে। আমরা দেশ ছেড়েছি জয়ের লক্ষ্য নিয়েই।”

“অভিজ্ঞতা কখনও কখনও ভূমিকা রাখে বটে। আমাদের কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে। তবে কখনও কখনও তাড়না ও ক্ষুধা দিয়ে অভিজ্ঞতাকে পেছনে ফেলা যায়। আশা করি এই সিরিজে এমন কিছুই হবে।”

কোভিডের ভয় ও শঙ্কার কারণে এই সফর থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন টেস্ট অধিনায়ক জেসন হোল্ডার, ওয়ানডে অধিনায়ক কাইরন পোলার্ডসহ শীর্ষ ১০ ক্রিকেটার। ব্যক্তিগত কারণে সফরে নেই আরও ২ জন। ঘোষিত দল থেকেও শেষ মুহূর্তে আরেকজন ছিটকে গেছেন কোভিড আক্রান্ত হওয়ায়।

যারা আসেননি, তাদের ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করছেন সিমন্স। যারা এসেছেন, তাদেরকে কোচ শোনালেন বড় প্রেরণার কথা। লুফে নিতে বললেন এই সুযোগ।

“প্রথম সিরিজ থেকেই আমাদের সব ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল (সফর করা বা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার)। কেউ প্রথম সিরিজে যায়নি, কেউ দ্বিতীয় সিরিজে, কেউ কেউ এই সিরিজে। সবারই নিশ্চয়ই ভিন্ন ভিন্ন কারণ আছে। আমি কেবল নিজের সিদ্ধান্তই নিতে পারি।”

“এখানে ছেলেদের কাছে আমার বার্তা, এখানে তোমরা কারও জায়গা পূরণ করতে আসোনি, বরং তোমাদের জন্য এটি সুযোগ। এই দলে জায়গা পাকা করার সুযোগ এটি। এখানে ভালো করলে তা সামনে এগিয়ে যাওয়ায় সহায়ক হবে। এখানে ৩ ওয়ানডে ও ২ টেস্টে ভালো করা মানে নিজেকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া, যেখান থেকে তোমাকে সরানো যাবে না। এই সুযোগটা কেবল তোমারই।”

বাংলাদেশে আসার পর কোভিড পরীক্ষায় নেগেটিভ হয়েছেন ক্যারিবিয়ানদের সবাই। এবার শুরু তাদের প্রস্তুতির পালা। নিজেদের মধ্যে কয়েকদিন অনুশীলনের পর আগামী সোমবার নিজেদের মধ্যে তারা একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বিকেএসপিতে। ওয়ানডে সিরিজ শুরু ২০ জানুয়ারি।

শেয়ার